হাওর অঞ্চলে টানা ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিকভাবে চিহ্নিত করে স্বচ্ছ তালিকা প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সরকারি সহায়তা দ্রুত তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম পর্যালোচনার উদ্দেশ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দিয়ে কোনো ধরনের তালিকা করা যাবে না। নির্ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কৃষকদের চিহ্নিত করতে হবে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী আগামী তিন মাস তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে দ্রুত সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভাগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি অকাল বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকদের ক্ষতি কমাতে ভবিষ্যতে ধান রোপণ ও ধান কাটার সময়সূচি কিছুটা এগিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, হাওরাঞ্চলে বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের শনাক্ত করে সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং অন্তত তিন মাস সহযোগিতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশীদ ইয়াসিন উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া হাওরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্যরাও সভায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, ড. ওসমান ফারুক, ফজলুর রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবর, কামরুজ্জামান কামরুল, নুরুল ইসলাম, কলিম উদ্দিন মিলন ও মোহাম্মদ কয়সর আহমদ।
সভায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা হাওর অঞ্চলের কৃষকদের দুর্ভোগ, ফসলহানি এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে কৃষকদের দ্রুত পুনর্বাসন ও কৃষি কার্যক্রম সচল রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান তারা।