নাবালকের রোজা।
সেলিম আহমেদ
কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধিঃ
ইসলাম মানবজীবনের সকল বিষয়ে সুন্দর নির্দেশনা প্রদান করে। এই নির্দেশনার পূর্ণ অনুসরণ মানুষকে ক্ষতি থেকে দূরে রাখে।
নাবালকের রোযাঃ মুসলমান, প্রাপ্তবয়স্ক, বোধশক্তিসম্পন্ন সকল ব্যক্তি শারঈ ওযর ব্যাতিত রমজানে রোজা রাখা ফরয।
ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে কবিরা গুনাহ হবে। অন্যদিকে নাবালকরা রোজা রাখার আবশ্যক আদেশের বাইরে। তাদের জন্য সাবালক হওয়ার আগ পর্যন্ত অবকাশ রয়েছে। শুধু রোজা ক্ষেত্র নয়, বরং ইসলামী শরীআতের সকল আবশ্যক হুকুম থেকে তারা ছাড় পায়।এই সময় তাদেরকে ইসলামী শরিয়াত মানার জন্য প্রস্তুত করা হয়।
আল্লামা ইবনু বাত্তাল আল মালিক রঃ (৪৪৯ হি) বলেন,
উলামারা ঐক্যমত করেছেন যে বাচ্চাদের বিভিন্ন আমলে অভ্যস্ত করতে এবং পরিণত বয়সে উপনীত হলে শরীয়াত মানা সহজ করার মানসে ও শিশুদের জন্য বরকত লাভের আশায় তাদেরকে রোজার পাশাপাশি অন্যান্য আমলের প্রশিক্ষন দেয়া মুস্তাহাব মনে করতেন। (শারহু সহীহিল বুখারি, ৪/১০৭)
আল্লাহর রাসুল সাঃ এর সাহাবীরা বলেন, আমরা আমাদের বাচ্চাদের রোজা রাখাতাম। কোন বাচ্চা খাবারের জন্য কাঁদলে তাকে খেলনা দিয়ে ইফতার পর্যন্ত শান্ত রাখতাম(আল-জামিউস সহীহ,হাদীস নং ১৯৬০)
অপর হাদিসে এসেছে, হযরত উমর রাঃ রমজানের দিনের বেলা নেশাগ্রস্ত এক ব্যাক্তিকে বলেন, তোমার ধ্বংস হোক! তুমি নেশা করছ অথচ আমাদের বাচ্চারাও রোযা রাখছে! পরবর্তিতে হযরত উমর রাঃ তাকে শাস্তি দেন।( প্রাগুক্ত, বুখারি)
নাবালককে রোযা রাখানোর কিছু পদ্ধতিঃ নাবালক সন্তান রোযা রাখার ইচ্ছা করলে অনেক পরিবারে তাদেরকে সে সুযোগ দেয়া হয় না। সঠিক ধারনার অভাবে ১০ বছর বয়সেও শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কায় অভিভাবকরা এমনটা করেন।
কিন্তু এই সময়ে উচিত তাদেরকে রোযার ব্যপারে আগ্রহী করে তোলা।
অভিভাবকরা বাচ্চাদের রোযার ব্যপারে প্রয়োজনীয় কিছু পরামর্শ গ্রহন করতে পারেন-
√বাচ্চাদের রোযা রাখার গুরত্ব ও ফাদাইল সম্পর্কে অবগত করা।
√সাহরী ও ইফতারে সময় সাথে রাখা
√রোযা রাখার জন্য উৎসা প্রদান করা।
√ সাবালক হওয়ার নিকটবর্তী বয়সে মাঝে মাঝে রোযা রাখার তাকিদ দেওয়া।
রোযা রাখতে চাইলে বাধা না দেওয়া।
√রোযা রাখলে পুর্ণ করার জন্য খেলনা বা অন্য কিছুর মাধ্যমে মন ভুলিয়ে রাখা।
√ যদি রোযা রাখার কারনে তাদের শরীর খারাপ হয় কিংবা খুব দুর্বল হয়ে পড়ে তাহলে খাবার খেতে দেওয়া।
আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে তাঁর এবং তাঁর রাসুল সাঃ এর ভয় ও মহব্বত ধারন করে ইসলামের পথে অটুট থাকার তাওফিক দেন। আমীন!