পটুয়াখালীর বড় বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া এলাকায় টিনের চাল কেটে জুয়েলারি দোকানে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় মূল হোতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চোরাইকৃত ০২ ভরি ০৪ আনা স্বর্ণালংকার ও ৮২ ভরি রুপার অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার পুলিশ সুপারের কার্যালয়, পটুয়াখালী থেকে পাঠানো এক প্রেস রিলিজে এ তথ্য জানানো হয়। প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মার্চ ২০২৬ রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিট থেকে সকাল ৮টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অজ্ঞাত চোরেরা পটুয়াখালী সদর থানাধীন বড় বিঘাই ইউনিয়নের কেওয়াবুনিয়া এলাকার লোকনাথ জুয়েলার্স নামের একটি দোকানের টিনের চাল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে।
পরে দোকান থেকে প্রায় ০৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫০ ভরি রুপার অলংকার ও নগদ ২৮ হাজার ৭০০ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পর দোকান মালিক সঞ্জয় কর্মকার পটুয়াখালী সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬০, তারিখ ৩০-০৪-২০২৬, ধারা ৪৫৭/৩৮০ পেনাল কোড।
পুলিশ সুপার পটুয়াখালীর সার্বিক দিকনির্দেশনায় সদর থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মে পটুয়াখালী থানা এলাকা থেকে মোঃ সোহেল হাওলাদার (৩২) কে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তার বাসা থেকে ০১ ভরি ০২ আনা ০৪ রতি স্বর্ণ ও ৫৪ ভরি ১৫ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল চুরির ঘটনা স্বীকার করে এবং জানায়, চোরাইকৃত বাকি মালামাল ঢাকার কাফরুল এলাকার স্বর্ণ ব্যবসায়ী মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেলের কাছে বিক্রি করেছে। পরবর্তীতে পুলিশ সোহেলকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেলকে গ্রেফতার করে।
এ সময় তার কাছ থেকে আরও ০১ ভরি ০২ আনা স্বর্ণ ও ২৭ ভরি রুপা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলো মোঃ সোহেল হাওলাদার, থানা ও জেলা-পটুয়াখালী।
মোঃ আজাহার আলী ওরফে সোহেল, থানা-ধামরাই, জেলা-ঢাকা।
পুলিশ জানায়, জব্দকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের আংটি, কানের রিং, নাকফুল, গলানো স্বর্ণ, রুপার নুপুর, চেইন, আংটি, ঘটনার সময় ব্যবহৃত বাংলা দা ও হাত কড়াত।
এ ঘটনায় গ্রেফতার আসামী মোঃ সোহেল হাওলাদার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।