প্রবাস জীবনের দুই বছরের শেষদিনের কিছু অভিজ্ঞতা
সর্ব প্রথম মহান আল্লাহ পাকের দরবারে শুকরিয়া জানাই।তিনি এখনো আমার মত লক্ষ-কোটি প্রবাসী ভাই-বোনদের কে প্রবাসে হেফাজতে রেখেছেন বিশেষ করে করোনাকালীন এই দুর্যোগ মুহূর্তে।আজ(৯-০৩-২০২১ইং)আমার প্রবাস জীবনের দুইটি বছর পার হয়ে যাচ্ছে। মানে ৩৬৫×২=৭৩০দিন অতিবাহিত হলো মা-ভাই-বোন,বন্ধু-বান্ধব,আত্মীয়-স্বজন, ছাড়া।ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় আর নিজের পরিবার, দেশের জন্য আমার মত হাজারও তরুণ-তরণী বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। কেউ বৈধ পথে আবার কেউ অবৈধ পথে। দু-ই কিন্তু নিজের দেশের ও পরিবারের মানুষের জন্য। আমার দেশের কিছু অসাধু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আমি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করি না,তবে সবাইকে না কিছু মানুষ ছাড়া।যারা নিজের দেশের ব্যাংক-ব্যালেন্স লুট করে পরের দেশে পাচার করে, রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় ক্ষমতার পালা বদলে।তারা আর যায়হোক দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক লোক না।তারা স্বার্থপর এবং চরম স্বার্থপর।এই কথাটি বলার উদ্দেশ্যে হলো, আমরা বিদেশে যখন শ্রম বিক্রি করছি সৎ ও সততার সাথে দেশের জন্য সুনাম অর্জন করছি।ঠিক অন্যদিকে অসৎ ও অসততার কারণে কালো টাকার পাহাড় গড়ে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে একশ্রেণী রাঘব বোয়াল। তারাও বাংলাদেশের নাগরিক আর আমাদের মত সাধারণ মানুষও বাংলাদেশের নাগরিক। পার্থক্য শুধু দেশ প্রেম আর ভালোবাসার প্রশ্নে;
আমি মনেপ্রাণে প্রায় বলি প্রত্যেক মানুষের জীবনের এক একটি ইতিহাস এক একটি উপন্যাস। আর যারা প্রবাসে থাকে নিজ দেশ-পরিজন ছেড়ে তাদের ইতিহাসের কাছে কোন বই ঠাঁই পাবে না।আমি বা আমরা একজন প্রবাসী হওয়ার পিছনে কোন না কোন একটি কারণ আছে বা থাকে সবারই।অনেকেই শুনতে চাই বা ইচ্ছা পোষণ করেন।সেই ঘটনা না হয় অন্য একদিন জানানো যাবে, অন্য কোন লেখায়। আজ কিছু কথা শুধু লিখবো শুধুমাত্র আমার এই প্রবাসী বাংলাদেশী ভাই-বোনদের দুঃখের কথা। সাথে লিখবো বাংলাদেশে আমাদের কি ধরণের বৈষম্য করা হয় আর কিছু কুচক্রী মহলের দাফটের কথা।
অনেক কষ্ট বা কথা আমাদের(প্রবাসীদের) দাঁতে দাঁত চেপে সহ্য করতে হয় এই প্রবাসীদের।কেউ আমাদের সালা বললে আমরা তাকে দুলাভাই বলে জড়িয়ে ধরি।কারণ, একটা কথা আছে,”নিজের দেশে সবাই রাজা,পরদেশে সবাই প্রজা।” এরা(প্রবাসীরা) বাংলাদেশে কোন সরকারি চাকরি করে না। এরা বিদেশে অনেক বড় থেকে ছোট যে কোন কোম্পানির জন্য কাজ করে। দেশের সুনাম অর্জন করে।অন্যদিকে কিছু লোক সরকারি চাকর(চাকরিজীবী) ঘুষ খায়। প্রবাসীরা ঘুষ খায়তে পারে না বা ইচ্ছা থাকলেও হয় না! এটাই পার্থক্য প্রবাসী আর দেশের কিছু সরকারি চাকরিজীবিদের মধ্যে দেশ প্রেম আর ভালোবাসার।অথচ প্রবাসীদের মর্যাদা দেওয়া হয় না বাংলাদেশে অথচ ঘুষখোর মাথা মোটাদের সম্মানের জন্য গরীবের পথ বন্ধ করে ঘন্টার পর ঘন্টা বাধ্য করা হয় তাদের বক্তব্য বা শুভেচ্ছা জানাতে। বিমানবন্দরে হয়রানির শিকার হয় আমাদের এই রেমিটেন্স যোদ্ধারা,অথচ ঘুষখোর আর কালো টাকা পাচারকারী রাজনৈতিক সুবিধাবাদী কিছু কর্তাব্যক্তিরা অনায়াসে চলে আসে ভিভিআপি টার্মিনাল দিয়ে।তারা বিভিন্ন কালো চক্রের সঙ্গে জড়িত।কিন্তু দেশের প্রশাসন তাদের সম্মান দিতে ব্যতিব্যস্ত।যা প্রবাসীদের জন্য খুবই অসম্মানজনক।যেমনি করা হয় বৈষম্য, তেমনি করা হয় আমাদের উপর অবিচার। এর বিচার চাইবেন?পাবেন কোথায় !কারণ,ওরা ভিভিআইপি?!আর আপনাকে,আমাকে “বালের কামলা” বলেও খাল মন্দ করবে আপনি আমি কিছুই করতে পারি না বা পারবো না।কারণ,আমরা পরদেশে প্রবাসী,এমনকি নিজ দেশেও পরবাসী হয়ে যাচ্ছি দিন কি দিন।পাঠকরা মনে করছেন আমি অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কেন এত সমালোচনা করছি।কারণ, এই সমালোচনা হলো আমাদের অভিজ্ঞতারই অংশ।
প্রবাসে অনেক প্রবাসী ভাই-বোনেরা দুর্ঘটনাজনিত ও স্টোকজনিত,মস্তিষ্কের রক্ত ক্ষরণ, ক্যান্সার এবং সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অকাল মৃত্যু ঘটে।এদের প্রত্যেকেরই বয়স প্রায় ৩৫বছরের ঘরে।এর পিছনে কারণ হিসাবে পাওয়া যায়, পারিবারিক ঋণের বোঝা, খাদ্য অভ্যাস,কর্ম পরিবেশের সমস্যা, আবহাওয়ার সমস্যা ও অশান্তির প্রধান কারণ।কর্ম ক্ষেত্রে যখন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করে তখন দুর্ঘটনা হয় বেশি।রাতে ঘুমানোর আগে যখন বাসাতে ফোন দেয় তখন বাড়ি থেকে বিভিন্ন চাহিদা,অভিযোগ,সমস্যা ইত্যাদি শুনে ঘুমাতে যায়।কখনো কোন প্রবাসী জীবিত হয়ে ওঠে ঘুম থেকে আবার কখনো কোন প্রবাসী মৃত লাশ হয়ে পড়ে থাকে সকালে তার বিছানায় । একটা জরিপে দেখা গেছে প্রতিদিন গড়ে ১০-১২জনের প্রবাসীর লাশ বাংলাদেশে পৌছায়।২০০৫ সালে এই লাশের সংখ্যা ছিলো ১২৪৮জনের কিন্তু ২০০৯ সালে তা বেড়ে দ্বিগুণ হয়।২০১৫সালে আসে ৩৩০৭জনের মরা দেহ।[সূত্রঃ-পত্রিকার খবর ও প্রবাসী মন্ত্রণালয়।
সর্বশেষ এটুকু বলব হাজারো কষ্টের মাঝে পরিবার সমাজ দেশের মানুষকে আমার থেকে একটু সুখে রাখতে পেরেছি
আলহামদুলিল্লাহ