বগুড়া জেলা প্রতিনিধিঃ-
ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু সামিউল ইসলাম সাব্বির (১০)। বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার সাজাপুর পূর্ব দক্ষিণ পাড়া তালিমুল কুরআন হাফেজিয়া মাদরাসায় পড়াশোনা করতো সে। শিশুটির মায়ের কাছ থেকে তালাকের প্রতিশোধ নিতে সৎ পিতা ফজলুল হকের হাতে নৃশংসভাবে খুন হতে হয় শিশু সাব্বিরকে।
আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বগুড়া পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,
১৭ মে মঙ্লবার সকালে শিশু সাব্বিরের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এক পর্যায়ে জানা যায়, শিশুটির মা ঘাতক ফজলুল হককে কিছুদিন আগে দ্বিতীয় বিয়ে করে। বিয়ের ১০/১৫ দিন পর থেকে শিশু সামিউলকে পথের কাটা মনে করে তাকে অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। সৎ পিতার দ্বারা সন্তানের কষ্ট সহ্য করতে না পেরে সামিউল ইসলাম সাব্বিরের মা সালেহা বেগম দ্বিতীয় স্বামী ফজলুল হককে গত ১১ মে তালাকের নোটিশ পাঠালে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ফজলুল। এক পর্যায়ে সালেহার একমাত্র পুত্র সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা মোতাবেক ঘাতক সৎ পিতা ফজলুল হক তার নারী সহযোগী অনিতা রাণীকে সাব্বিরের মা সাজিয়ে ১৬ মে সন্ধ্যায় ওই মাদরাসার প্রিন্সিপালের নিকট মোবাইল করে সাব্বিরকে তার সৎ পিতা ফজলুল হকের হাতে তুলে দিতে বলে। ঘাতক ফজলুল হক হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা করে সাব্বিরকে নিয়ে মানিকদিপা উত্তরপাড়ার একটি লাউ ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। প্রথমে শিশুটির পরিচয় পাওয়া না গেলে স্যোশাল মিডিয়ায় শিশুটির লাশের ছবি প্রচার হয়। সালেহা বেগম জানার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব্বিরকে নিজ সন্তান বলে সনাক্ত করে। ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে তদন্তের এক পর্যায়ে নিশ্চিত হয় অনিতা রানীর সহযোগিতায় ফজলুল হক শিশু সাব্বিরকে হত্যা করে। পুলিশ সুপার আরো বলেন, হত্যার ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না সে ব্যাপারে আরো তথ্য সংগ্রহ করতে আসামীদের আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।