নেইমার জুনিয়র | ফাইল ছবি
বিশ্বকাপের মঞ্চে ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামার অপেক্ষায় ব্রাজিল। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর আগমুহূর্তে দলটির শিবিরে নেমে এসেছে উদ্বেগের ছায়া। দলের অন্যতম ভরসা এবং সবচেয়ে বড় তারকা নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন অনিশ্চয়তা। ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় মরক্কোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তার খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু সেই ম্যাচের মাত্র একদিন আগে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নেইমার এখনও পূর্ণমাত্রার অনুশীলনে ফিরতে পারেননি। ফলে উদ্বোধনী ম্যাচে তাকে মাঠে নামানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না ব্রাজিল দলের মেডিকেল বিভাগ।
ফরাসি ফুটবলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফুটমেরকাতোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুনর্বাসন প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোলেও শেষ পর্যায়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের মাঠে ফেরার সময়সূচি আরও পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ১৭ মে ব্রাজিলিয়ান লিগে সান্তোসের জার্সিতে খেলতে গিয়ে ডান পায়ের কাফ মাসলে চোট পান নেইমার। ওই ম্যাচের পরপরই তাকে পর্যবেক্ষণে নেয় জাতীয় দলের মেডিকেল ইউনিট।
প্রাথমিক পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন, সুস্থ হয়ে উঠতে অন্তত তিন সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে। সেই হিসাব অনুযায়ী বিশ্বকাপের শুরুতেই তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি এখন ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে।
বর্তমানে ব্রাজিল দল নিউ জার্সিতে অবস্থান করে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সতীর্থরা নিয়মিত অনুশীলনে অংশ নিলেও নেইমারকে এখনও আলাদা ফিটনেস প্রোগ্রামের মধ্যেই রাখা হয়েছে। জিমে ওয়ার্কআউট, সাইক্লিং এবং হালকা শারীরিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি ধীরে ধীরে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে নেইমারের অনুপস্থিতি ব্রাজিলের জন্য নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দলের আক্রমণভাগের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিলেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা, সৃজনশীলতা এবং ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সক্ষমতা ব্রাজিলের কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।
বিশেষ করে এবারকার বিশ্বকাপকে ঘিরে নেইমারকে নিয়ে ছিল বাড়তি আলোচনা। দীর্ঘ সময় জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তি নানা বিতর্ক ও সমালোচনার মধ্যেও তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেন। কোচের বিশ্বাস ছিল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।
নেইমার নিজেও বিশ্বকাপ শুরুর আগে আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছিলেন, এটি তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ হতে পারে। ফলে এই আসরকে ঘিরে তার ব্যক্তিগত প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশি। কিন্তু ইনজুরির কারণে টুর্নামেন্টের শুরুতেই তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে, যা তার জন্য যেমন হতাশার, তেমনি ব্রাজিল সমর্থকদের জন্যও বড় দুঃসংবাদ।
তবে সব খবরই নেতিবাচক নয়। ব্রাজিল দলের মেডিকেল বিভাগের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ম্যাচে খেলার সম্ভাবনা না থাকলেও টুর্নামেন্টের পরবর্তী সময়ে নেইমারকে পাওয়া যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ১৯ জুন হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় গ্রুপ ম্যাচ অথবা ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ গ্রুপ ম্যাচে তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে নেইমারের সম্ভাব্য অনুপস্থিতি মাথায় রেখে বিকল্প পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন কোচ আনচেলত্তি। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে আক্রমণভাগে নতুন সমন্বয় দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে সামাল দেয় ব্রাজিল, এখন সেদিকেই নজর ফুটবলবিশ্বের।
ষষ্ঠ শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামতে যাওয়া সেলেসাওদের জন্য তাই বিশ্বকাপ শুরুর আগেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে একটাই—নেইমার কবে ফিরবেন, আর ফিরেই কি তিনি ব্রাজিলকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছে দিতে পারবেন?
জেবি/এএস