বাউফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, দুটো ঘড় পুড়ে ছাই, সম্বলহীন দুটো পরিবার
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
আগুনের লেলিহান শিখার কথা শুনলেই কেমন যেন বুক কেঁপে ওঠে,আর যখন এই আগুনে সব কিছু পুড়ে শেষ হয়ে যায় সেই কষ্ট ভুক্তভুগী ছাড়া অন্য কেউ বুজতে পারে না। এই ভয়ানক আগুনের লেলিহান শিখা দেখলো পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ০২ নং কালিশুরী ইউনিয়ন এর ০৮ নং ওয়ার্ড এর পাতিলাপাড়া গ্রামের শের আলী হাওলাদার বাড়ির অসহায় দুইটি পরিবার। ঘটনাটি ঘটছে ২৪ শে এপ্রিল রোজ শনিবার আনুমানিক বিকাল চারটার দিকে, ভুক্তভোগী মরুহুম কামাল হাওলাদার এর বিধবা স্ত্রী মোসাঃতহমিনা বেগম(৩৮) তিনি সারাদিন অন্যের বাসায় ঝি এর কাজ করে দু-মুটো খাবার এনে মুখে দেয় এতিম সন্তানদের,তার মাথা গোজার ঠাঁই কেড়ে নিলো কালগ্রাসী আগুনের লেলিহান শিখা, পুড়ে গেছে মেয়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ও বই, গতবছর তিনি ব্যাংক থেকে ঋন নিয়ে ঘড় তুলে ছিলেন,শুধু তিনি একাই নন পাশাপাশি বসবাস করা আরেকটি অসহায় পরিবার অল্প বয়সে মা বাবা হারা এতিম মোঃ রিপন হাওলাদার (৩৫) সারাদিন মাঠে -ঘাটে দিনমজুরি করে স্ত্রী ও সন্তানের মুখে আহার তুলে দিতেন। ভুক্তভোগী দুই পরিবার পড়নের কাপড় ছাড়া অন্য কোনো কিছু আগুনের লেলিহান শিখা থেকে রক্ষা করতে পারেননি।ঘুড়ে দাড়ানোর মত কোনো অবলম্বন নেই তাদের। বিধির এ কেমন খেলা নির্মম পরিহাস।
এ বিষয় স্থানীয়দের সুত্রে জানা যায়, বসত ঘড়ের ভিতরে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বসত ঘড় দুইটি তালা বদ্ধ করে তারা দুই পরিবারই কাজে বের হয়, ভুক্তভোগী রিপন হাওলাদার বাড়ির পাশে মাঠে মুগ ডাল তুলতে ছিলেন একপর্যায়ে তিনি মসজিদের মাইকে শুনতে পান আগুন লেগেছে,তিনি দ্রুত মাঠ থেকে বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হন,বাড়ি এসে দেখতে পান হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
আরেক ভুক্তভোগী মোসাঃ তহমিনা বেগম পার্শ্ববর্তী এলাকায় এক বাসায় ঝি এর কাজ করতে ছিলেন।মানুষের কাছে শুনতে পান আগুন লেগেছে শের আলী হাওলাদার বাড়ি তখন তিনি দৌড়ে বাড়ির দিকে রওনা হন, বাড়ি গিয়ে এই দৃশ্য দেখে নির্বাক হয়ে যান।ভুক্তভোগীদের মনে একটাই প্রশ্ন কোথায় যাবে,কি হবে?
ভুক্তভোগীরা এলাকার বৃত্তবান ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করছে।