বাঘা টু রাজশাহী বাসের ভাড়া কমেনা,ছাত্রদের ভোগান্তি পর্ব ১
বাঘা রিপোটারঃ
সবকিছুতেই যেন আগুন। করোনার আগে একজন মানুষের জীবিকা নির্বাহ করতে যে খরচ হতো, এখন তার দ্বিগুণ খরচেও হচ্ছে না। কিন্তু করোনা এখন আর নেই। অজুহাত তাহলে কি দেয়া যায়? তেলের দাম বাড়ার অজুহাতেও সবকিছুতে আকাশছোঁয়া দাম বেড়ে যায়।সাধারণ মানুষের দুঃখ হচ্ছে দাম বাড়লে সেটা আর কমে না কেন?
বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে দেশেও দাম কমেছে। কিন্তু বাঘা টু রাজশাহীর ভাড়া আর কমেনি।একই দূরত্বের ভাড়া করোনার আগে ছিল ৫০ টাকা। এরপর করোনায় হয়েছে ১০০ টাকা। আর এখন ৯৫ টাকা। এই যে বাড়ছে, এটা বাড়তেই থাকে। করোনার আগ পর্যন্ত বাঘার বাসে উঠানামা ছিল ৫০ টাকা। এরপর সেটা ডবল করেছে ১০০ টাকা, এখন ৯৫ টাকা। ৫০ টাকার ভাড়া হয়েছে ৯০ থেকে ৯৫। যেভাবে গণপরিবহনের ভাড়াবৃদ্ধি পাচ্ছে, সেভাবে কি সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি হচ্ছে?
২০০৮ সালে বাঘা টু রাজশাহী রুটের ভাড়া ছিলো ৩০ টাকা তখন বিআরটিসি দোতালা বাস যেতো তার ভাড়া ২০ টাকা। বিআরটিসি আর নেই।এখন এদের ভাব দেখে কে।এখন ৯৫ টাকা ভাড়া সাধারন জনগন থেকে ছাত্র লেবার সবার।
কিন্তু রাস্তার দুরত্ব অনুযায়ী বাসের ভাড়া ৬০-৭০ হবার কথা।এমন টি বলছিলেন রাবি ছাত্র সুজন।
এদিকে বাসের ফিটনেস অনেকটার ই ঠিক নেই।কোনটার ছাদ দিয়ে টিপটিপ করে পানি পরে, আবার কোনটার জানালার কাচঁই নেই।আর সব থেকে বড় কথা বাসে দাঁড়ানোর জাইগাই নেই।গাদাগাদি আর ঠেলাঠেলিতে একাকার মেয়ে আর ছেলে কোন প্রার্থক্য নেই।হেলফার রা যত পারে ততোই নেই। বলছিলেন বাঘা উপজেলার সরেরহাট নিবাসি রেজাউল করিম ছাত্র রাজশাহী কলেজ।
সিটি কলেজ ছাত্র মুস্তাকিন বলেন আমি হাবাসপুর থেকে রাজশাহী যায় ৮০ টাকা ভাড়া নেই।ছাত্র বললে আগে ২০ টাকা কম নিতো কিন্তু এখন বলে কোন ছাত্র নেই সব একই ভাড়া।এদিকে কন্টাকটার এর ব্যবহার যঘন্য।সিটের চেয়ে অতিরিক্ত যাত্রী গাদাগাদি করে নিবে।
বাঘা নারায়ণপুর এসকে সুমন কর্মকার বলেন বাংলাদেশের অনেক প্রান্তে যাতায়াত করেছি কিন্তু আমাদের বাঘা-রাজশাহী রুটের মতো এতো ফালতু লেভেলের বাস সার্ভিস আর দেখিনাই। রীতিমতো গেটলক সার্ভিস এর ভাড়া নিচ্ছে আর লোকাল সার্ভিসের মতো ৪৪ কিলোমিটার রাস্তা যেতে সময় নেয় ১ ঘন্টা ৪০ মিনিটের কাছাকাছি। ভাবা যায় !আর ভাড়ার কথা নাই বা বললাম। নির্দিষ্ট ভাড়ার থেকে যদি একবার বড় টাকার নোট দিয়েছেন তো আর কোন কথাই নাই। বাকি টাকাটা ব্যাক দিতে ওদের অনেক কষ্ট হয় আর কি
বাংলাদেশের অন্যান্য রুটে যেখানে ন্যায্য ভাড়া নেয়,সেখানে আমাদের রুটের অবস্থা সত্যিই লজ্জাজনক। পার্শ্ববর্তী অনেক জেলাগুলোতে যেখানে লোকাল এলাকায় পর্যন্ত গেটলক ও লোকাল সার্ভিস চালু রয়েছে সেখানে বাঘা-রাজশাহীর মতো জনবহুল রুটে এক তরফা সার্ভিস সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার। অধিকাংশ যাত্রীর কাছে নিত্যদিনের এক অভিযোগের নাম হলো অতিরিক্ত ভাড়া আদায়। জানিনা কবে এদের জুলুমের হাত থেকে সাধারণ মানুষ রেহাই পাবে।
বাঘা রুটের জুথি গাড়ির মালিক রাব্বানী বলেন আমরা প্রকৃত ভরায় নিয়ে থাকি মালিক সমিতি যেটি তালিকা তৈরি করে দিয়েছে তার থেকে বাসের কন্টাকটার কে কম নিতে বলা আছে যেমন বাঘা থেকে রাজশাহীর ভাড়া ৯৫ টাকা কিন্তু কন্ট্রাক্টার কাছে ৯০ টাকা নিয়ে থাকে।
সোনার বাংলা গাড়ির কন্টাকটার হামিদ বলেন যে ভাড়া মালিক সমেতি করে দিয়েছে সেটাই নিই। আমার কিছু করার নাই।গাড়ির পারমিট সম্পর্কে জানতে চাইলে বলে ওসব লাগেনা আমাদের মালিকের ক্ষমতা আছে।
বাঘা রুটের জাকির গাড়ির কন্টাকটার জামরুল বলেন গাড়িকি পানিতে চলে যে ভাড়া কম হবে,ভাড়া ঠিকই আছে যদি মন চাই যাবে নয় তো না।
বাঘার টিকিট কাউন্টার মাস্টার রনজিত বলেন ভাড়া নির্ধারন করেছে বাংলাদেশ সরকার ৯৬.৮০ পয়সা। রাজশাহী থেকে বাঘার ভাড়া লকডাউনের পর থেকে ৯৫ টাকা করেই নিয়ে থাকি।
ট্রাফিক এর ডিসি অনির্বান চাকমা বলেন অভিযোগ পেলে ঔ রুটের বাসের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
বিআর টি এর কর্মকর্তারা এ বিষয়ে সাংবাদিক এর সাথে কোন কথা বলতে রাজি হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন বাঘার আমজনতার অন্যতম দাবি গণপরিবহনের দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করা। সবার একটাই কথা, যেভাবে হোক ভাড়া নিয়ন্তন করতে হবে।ছাত্রদের ভাড়া অর্ধেক করতে হবে।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের একটাই চাওয়া গণপরিবহনের ভাড়া আগের মতো করা হোক। তারা পারছে না দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে। এই দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করে জনগনের মনে একটু স্বস্তি এনে দেয়া সরকারের দায়িত্ব।