পিরোজপুর প্রতিনিধি : পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আলোচিত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে মঠবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে। প্রতারক চক্রটি প্রথমে উকিল নোটিশ করেন পরে মোটা অংকের টাকা দাবি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মামলা করে দেন। এমন অভিযোগ করেন মঠবাড়িয়ার প্রায় অর্ধশতাধিক ভুক্তভোগী ব্যক্তি। প্রতারক চক্রের হয়রানি থেকে বাঁচতে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশতাধিক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে উপজেলার কাকড়াবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত সুলতান হাওলাদারের ছেলে এমাদুল হাওলাদার বাদী হয়ে সোমবার (৬ জুলাই মামলা) দায়ের করেন।

বিজ্ঞ বিচারক মামলা আমলে নিয়ে পিরোজপুর পিবিআই কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেন। আইনজীবী আব্দুল সালাম মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিষয়টি গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছেন।আসামীরা হলেন- উপজেলার বকসির ঘটিচোর গ্রামের বাসিন্দা মৃত মনোহর মিত্রের ছেলে শংকর ভূষন মিত্র, পৌর শহরের গয়ালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা শুধাংশু কর্মকারের ছেলে সঞ্জীব কর্মকার, অভনী ভূষনের ছেলে অসিম বাবু, কাকড়াবুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান হাওলাদারের ছেলে রবিউল সহ আরও অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন। এদিকে একই ঘটনায় গত ০৩ জুলাই শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগীরা মঠবাড়িয়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে করেছেন। অপরদিকে এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে । একই সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সাংসদ, বিভিন্ন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান এবং সাংবাদিক সংগঠনে অনুলিপি দেয়া হয়। যত্রতত্র হয়রানির ঘটনাটি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে মঠবাড়িয়ার দুই সাংবাদিককেও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে ভুয়া লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন প্রতারক চক্র। কিন্তু সেই উকিল নোটিশের খামের মধ্যে কোন কাগজ পাওয়া যায়নি । এ ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় গত ২৭ জুন একটি জিডি (জিডি নং ১৫৭৩) করেছেন। মামলা ও ভুক্তভোগীদের তথ্য দেয়া সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়ায় দীর্ঘদিন যাবৎ একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন মানুষের নামে ভুয়া চেকের পাতা তৈরি করে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছে। এমনকি মামলা দেয়ার পরে সমঝোতা করতে মোটা অংকের টাকার দাবি করে। উক্ত প্রতারক চক্রকে পেছনে বসে কিছু প্রভাবশালী লোকজন সাপোর্ট দিয়ে আসছে। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ মঠবাড়িয়ার খেটে খাওয়া মানুষ হয়রানির স্বীকার হয়েছেন এবং প্রতারক চক্রের কারনে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।ভুক্তভোগীরা প্রতারক চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও প্রতারক চক্রের দেয়া মিথ্যা মামলার হয়রানি থেকে বাঁচতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।