রুমি শরীফ,
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
সরকারি আইনি নিষেধাজ্ঞা ও নানা সংরক্ষণ উদ্যোগ সত্ত্বেও বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে বিপন্ন প্রজাতির হাঙ্গরের বাচ্চা শিকার। সম্প্রতি পটুয়াখালীর উপকূলীয় প্রধান মৎস্য অবতরণকেন্দ্র মহিপুর ও আলিপুরে প্রকাশ্যে বিপুল পরিমাণ ছোট (জুভেনাইল) হাঙ্গর বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, ‘আবুল কোম্পানি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের ট্রলিং বোটে করে সমুদ্র থেকে এই ছোট হাঙ্গরগুলো শিকার করে ঘাটে আনা হয়েছে।
সম্প্রতি আলিপুর ও মহিপুর মৎস্যবন্দরের আড়তে বিপুলসংখ্যক ছোট হাঙ্গর স্তূপ করে রাখার বেশ কিছু দৃশ্য সামনে এসেছে। ছবিতে দেখা যায়, প্রজননক্ষম হওয়ার অনেক আগেই বিভিন্ন প্রজাতির কচি হাঙ্গর শিকার করে বিক্রির জন্য তুলে রাখা হয়েছে। স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কতিপয় অসাধু ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ী নিয়মিত বঙ্গোপসাগরে হাঙ্গরের বাচ্চা শিকার করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, "আবুল কোম্পানির ট্রলিং বোট দিয়ে সমুদ্রে নিষিদ্ধ বিশেষ ধরনের জাল ব্যবহার করে এসব হাঙ্গরের বাচ্চা শিকার করা হয়। পরে ঘাটে এনে আড়ালে বা সুযোগ বুঝে খোলা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে।"
সামুদ্রিক পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজননক্ষম হওয়ার আগেই ছোট হাঙ্গর ধরা পড়লে তা বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য ও সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খলে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশে হাঙ্গর ও শাপলাপাতা মাছ সংরক্ষণে National Plan of Action for Conservation and Management of Sharks and Rays (NPOA-Sharks) বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২০২১ সালে বেশ কিছু প্রজাতিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তবুও মাঠপর্যায়ে এর প্রয়োগ নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, কেবল সাগরে নির্দিষ্ট মেয়াদে মাছ ধরা বন্ধ বা কাগজে-কলমে আইন রাখলেই হবে না; অবতরণকেন্দ্র ও ট্রলিং বোটগুলোতে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। কোনো ট্রলার জেনেশুনে বা বাই-ক্যাচ হিসেবে ছোট হাঙ্গর ধরলে তা সঙ্গে সঙ্গে সাগরে ফেরত দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অসাধু চক্র তা মানছে না।
এ বিষয়ে স্থানীয় মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান চালানোর জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা। একই সাথে ‘আবুল কোম্পানি’সহ যেসব ট্রলিং বোট সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।