সিলেট ছাত্রলীগের মহানগর কমিটি, টপ ইলেভেনে সমালোচিতরা!
সিলেট ব্যুরো:
দীর্ঘদিন পর আজ আসছে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। কমিটি গঠনের লক্ষে গত ১৩ মার্চ এ দুই ইউনিটের কর্মীসভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই কর্মীসভার পরপরই কমিটিতে পদ-প্রত্যাশী নেতাদের নাম বাড়তে থাকে। বিভিন্ন বলয়, গ্রুপ থেকে একাধিক নামও আলোচনায় উঠে এসে। তবে কমিটি দেয়ার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই কমে আসছে পদ-প্রত্যাশী নেতাদের নাম। এখন সিলেটের বিভিন্ন বলয়ের সমর্থন নিয়ে সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের ১১ নেতাকর্মী আছেন হট-লিস্টে। এসব নেতাদের দিয়েই আজ-কালের মধ্যেই সিলেট জেলা ও মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় একটি সূত্র।
কেন্দ্রীয় ওই সূত্র জানায়, কিছু হিসেব-নিকেশের কারণে কমিটি ঘোষণা হচ্ছে না। এসব হিসেব মিলে গেলেই কমিটি প্রকাশ হতে পারে।
তবে সংক্ষিপ্ত ১১ জনের তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে ভালো, ত্যাগী নেতাদের নাম যেমন আছে। তেমনি আছে বিতর্কিতদের নামও। বিশেষ করে সিলেটের রাজনীতির বলয় কেন্দ্রীয় হিসেবে এসব বিতর্কিত ছাত্রনেতারা সংক্ষিপ্ত তালিকায়ও নাম ধরে রেখেছেন। করছেন লবিং-তদবির। সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের পদ বাগিয়ে আনতে গ্রুপের নেতারা যেমন লবিং তদবির করছেন, তেমনি পদ-প্রত্যাশী ছাত্র নেতারাও লবিং-তদবির করছেন। কোনও কোনও পদ-প্রত্যাশী ছাত্রনেতা গত কয়েকমাস থেকেই পরে রয়েছেন ঢাকায়। কেউ নিয়েছেন মেস ভাড়া, কেউ আছেন হোটেলে।
কেন্দ্রীয় একটি সূত্র জানায়, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য নাজমুল ইসলাম আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলোচনায় আছেন সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাওয়াদ ইবনে জাহিদ খান।
এছাড়াও জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পদে আলোচনায় আছেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য রাহেল সিরাজ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কনক পাল অরূপ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-সম্পাদক এম এস রুবেল আহমদ, সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব দাশ ও সিলেট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য লোকমান মিয়া।
অন্যদিকে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি পদে আলোচনায় আছেন- আশরাফুল ইসলাম বাপ্পী, হুসাইন মোহাম্মদ সাগর আর সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আছেন- মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য কিশোর জাহান সৌরভ ও ছাত্রলীগ নেতা সাদিকুর রহমান সাদিক।আলোচনায় থাকা এসব নেতাকর্মীদের মধ্যে কয়েকজনকে নিয়ে বিতর্ক আছে।
এরমধ্যে কয়েকজন মামলার আসামিও আছেন, আছেন পলাতক আসামিরাও। তালিকায় থাকা নেতাদের মধ্যে কনক পাল অরূপ ‘ফাউ পাঠা নিতে গিয়ে’ সিলেট প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের মারধোর মামলার আসামি। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে টিলাগড়ের চাঁদাবাজি, ফাউ খাওয়াসহ নানা অভিযোগ আছে।
অন্যদিকে নাজমুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রনজিত সরকারের আর্শীবাদপুষ্ট এ ছাত্রনেতা তৈরি করেছেন টিলাগড় কেন্দ্রীক ত্রাসের রাজত্ব।
কথায় কথায় ভাংচুর করেন দোকানপাট, বাড়িঘর। বাদ যায়নি মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িও। ২০১৬ সালের ৮ আগষ্ট শহরতলীর শিবগঞ্জ খরাদিপাড়ার আনন্দ-৬ বাসার মুক্তিযোদ্ধা শারফান আলীর বাড়িঘরে হামলা করেন নাজমুল ও এমসি কলেজে সংঘবব্ধ ধর্ষণ মামলার আসামি সাইফুর। রড দিয়ে আঘাত করে ভেঙে দেন মুক্তিযোদ্ধার হাত। এ ঘটনায় শাহপরাণ থানায় মামলা হলেও এখনও নাজমুলকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়াও শাহপরাণ থানার জিআর ১৫৪/১৬, জিআর ১৫২/১৬ মামলায়ও পলাতক নাজমুল।
আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর করা সিলেটের নতুন শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায়ও আছেন আলোচিত-সমালোচিত এ ছাত্রনেতা। সংস্থাটির করা সন্ত্রাসী তালিকায় মাদক ও অস্ত্র-ব্যবসা, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও নারী নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে।
আর সাগর হোসাইন ওরফে হোসাইন মুহাম্মদ সাগর ছাত্রলীগ কর্মী কাজী হাবিব হত্যা মামলার আসামি। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ফটকের সামনে সাগরের নেতৃত্বে কাজী হাবিব ও তাঁর বন্ধুদের উপর হামলা চালানো হয়। এতে বিবিএ চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মী কাজী হাবিব নিহত হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় সাগর হোসাইন ওরফে হোসাইন মুহাম্মদ সাগরসহ ১৫ ছাত্রলীগ কর্মীকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের অক্টোবরে সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়তা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ এনে সিলেট জেলা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। একই অভিযোগে ২০১৮ সালের অক্টোবরে সিলেট মহানগর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
তবে নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে গত ১৩ মার্চ সিলেটের কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন।