মোঃ সুমন ইসলাম প্রামানিক ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন ঘুরতে এসে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যের হাতে আটক হয়েছেন প্রেমিক যুগল।
সোমবার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে ডোমার উপজেলার চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন প্রথম দেখা করতে আসে প্রেমিক যুগল। রেললাইন দিয়ে হাটার সয়ম নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্য তাদেরকে আটক করে অফিসে নিয়ে আসে। এর পর প্রেমিকে মারপিট করে আরএনবির দুই সদস্য আনিস ও সাজ্জাদ। তারপর প্রেমিক যুগলের পরিবারের অভিভাবকদের ফোন করে জানালে তারা ছুটে আসে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) অফিসে।
তাদের অভিভাবকদের সাথে টাকা রফাদফা করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) দুই সদস্য লিখিত নিয়ে ছেড়ে দেয় প্রেমিক ও যুগলকে। আটক প্রেমিক সিরাজ (১৯) চিলাহাটির ১নং ভোগডাবুড়ী ইউনিয়নের গোসাইগঞ্জ এলাকার মালেক ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকা শহরে একটি রড মিলে কাজ করেন। তার সাথে আটক হওয়া একই ইউনিয়নের মেয়েটির আগে বিয়ে হয়েছিল। এক সন্তান রেখে তার সংসার বিচ্ছেদ ঘটে। রং নাম্বারে কথার এক পর্যায়ে তাদের মাঝে মধুর সম্পর্ক ভালোবাসা তৈরি হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যদের কাজ হচ্ছে রেলওয়ের নিরাপত্তা দেওয়া। ঘুরতে আসা ছেলে-মেয়েদের আটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া তাদের কাজ নয়। তারা আরো বলেন দিনে দুপুরে চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনে খারাপ কাজ করা সম্ভব নয়। রেলওয়ে স্টেশন সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং শত শত মানুষের চলাচল রয়েছে। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সদস্যেরা প্রায় প্রায় অসহায় পরিবারের ছেলে-মেয়েদেরকে আটক করে টাকা রফাদফা করে। তারা এ ধরনের কাজ গুলো মোটেও ঠিক না।
চিলাহাটি রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর হাবিলদার সেলিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পার্বতীপুরে অবস্থান করায় বিষয়টি পুরোপুরি জানেনা বলে কলটি কেঁটে দেন।
চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন,ছেলে-মেয়েদের কে আটক করে। টাকা রফাদফা করা মোটেও ঠিক করেনি । তাদেরও তো আত্মীয় স্বজন হতে পারত। তারা খুবই লজ্জাজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আরো বলেন, আমি শুনেছি মানুষের কাছে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) বিষয়টি শুনেছি টাকা নিয়ে রফাদফা করেছে। আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম আর কিছু জানিনা।
দীর্ঘ ৫ ঘন্টা পর চিলাহাটি রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি)খাঁচায় আটক থাকার পর সন্ধ্যার পূর্বে উভয় প্রেমিক-প্রেমিকা যখন মুক্ত আকাশে বেরিয়ে নিজ বাড়ির অভিমুখে যাচ্ছিল, ঠিক তখনি স্থানীয় যুবসমাজ তাদের আটক করে পিছনে ফেলে আসা দিনগুলোর কথা জিজ্ঞাসা করতে থাকে। ঠিক সেই মূহুর্তে হাজির হয় চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হামিদুল ইসলাম ও তার সঙ্গীয় ফোর্স।
এ প্রসঙ্গে,চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একজন কর্মকর্তা এসআই হামিদুল ইসলাম। তিনি উভয় ছেলে-মেয়েকে ধরে চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যান। পরে তিনি সংবাদদাতাকে জানান, এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি আপস মিমাংসা করে ঘটনাটির সমাধান করেন এবং ছেলে-মেয়েকে নিয়ে যান।
মোঃ সুমন ইসলাম প্রামানিক ডোমার নীলফামারী প্রতিনিধিঃ
তারিখ 26/07/2021
Leave a Reply