
নাটোর ত্রাণের দরজা ‘বন্ধ’
সাজিদুল(করিম),নাটোর জেলা প্রতিনিধিঃ
নাটোরে চলমান টানা ২০ দিনের লকডাউনে কাজ হারানো মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ায়নি কেউই।
এক বছর আগে ঠিক এই সময় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দল, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তি উদ্যোগে যে ত্রাণ তৎপরতা ছিলো, এবার তার ছিটেফোঁটাও নেই।
লকডাউনে কাজ হারিয়ে আয়-রোজগার বলতে কিছু নেই তাদের। কর্মহীন হতদরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষ জমানো সঞ্চয়টুকু ভেঙ্গে কোনরকমে দিনাতিপাত করছেন। ত্রাণের জন্য এবার সকলের দরজা বন্ধ থাকায় খাদ্য সহায়তা চাওয়ার কোন জায়গা নেই গরীব ও অসহায় মানুষদের।
তিন সপ্তাহের লকডাউনে চাকরি, কাজ ও ব্যবসা হারিয়ে নিদারুণ কষ্টে দিন যাপন করছেন নাটোর জেলার প্রায় দেড় লাখ পরিবহণ শ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁ শ্রমিক, দিনমজুর, কুলি-মজুর, সেলুন কর্মচারী, দোকান-কর্মচারী, ফুটপাতের ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষক, বেসরকারি ক্ষুদ্র কোম্পানির চাকরিজীবী, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ।
করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ কেন্দ্রিক লকডাউনে ব্যাপক হারে ত্রাণ তৎপরতা কমে যাবার কারণ হিসেবে জানা যায়, গত বছরের শেষ ভাগে করোনা সংক্রমণ কমে গেলেও শুরুর ধাক্কার রেশ কাটানো যায়নি। সংক্রমণ শুরুর পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কর্মহীন অসহায় ও দুঃস্থদের জন্য মানবিক সহায়তা প্রদান শুরু হলে অনেকের খাবার কষ্ট কিছুটা দূর হয়।
অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তারা সাধ্যমতো চাল, ডাল, আলু, তরকারিসহ নিত্যপণ্য পৌছে দেয় নিম্নআয়ের মানুষের কাছে। ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেন জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বাম সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
জেলার সংসদ সদস্যরা নিজস্ব তহবিল থেকে সাধ্যমতো খাদ্রসামগ্রী ক্রয় করে পৌছে দেন কাজ হারানো মানুষের ঘরে ঘরে। পৌর নির্বাচনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকার অভাবী মানুষদের পাশে দাঁড়ান। সামাজিক সংগঠনগুলো চাঁদা তুলে খাবারের ব্যবস্থা করেন অসহায় মানুষদের জন্য। কিন্ত করোনার দ্বিতীয় ঢেউজনিত লকডাউন শুরুর পর মানুষের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা, ঘর থেকেও বের হননি রাজনৈতিক দলগুলোর অনেক নেতারা।
সরকারের ত্রাণ কর্মসূচীর দিকে এখনও চেয়ে আছেন তারা৷ ঈদের ঠিক আগে লকডাউন হওয়ায় আলাদা করে মানবিক সহায়তা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। তবে এসেছে ভিজিএফ ও জিআর ক্যাশ সহায়তা। বিভিন্ন সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রমগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় ত্রাণ তৎপরতায় নামেননি তারাও। ব্যক্তি উদ্যোগেও নেই কোন রকম খাদ্য সহায়তা।
দুঃস্থ ও অসহায় মানুষরা জানান, গত বছর রমজান ও দুই ঈদে সরকারি-বেসরকারি সাহায্য সহযোগিতায় কাজ হারিয়ে কিছুটা খেয়েপড়ে দিনযাপন করতে পেরেছেন। ভোটকে সামনে রেখে রাজনৈতিক নেতারাও খাদ্য সামগ্রী দিয়েছেন। কিন্ত এবারের ভয়াবহ করোনা সংক্রমণে কেউ তাদের পাশে দাঁড়াননি।
জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, এবারের লকডাউনে অভাবী ও কাজহারা মানুষের কষ্ট বেড়েছে কেননা ত্রাণ তৎপরতা কম। তবে সরকারিভাবে অর্থ বরাদ্দ এসেছে। খুব শীঘ্রই জেলার দরিদ্র ও অভাবী পরিবারগুলো নগদ ৫০০ টাকা করে পাবে। এছাড়া ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ৪৫০ টাকা করে পাবে। লকডাউনে কষ্টে পড়া মানুষের সহায়তায় সাহায্যের হাত বাড়ানোর জন্য প্রশাসন তথা সরকারের পক্ষ থেকে নাটোরের অবসম্পন্ন ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।
Leave a Reply