
গাইবান্ধা-বাহাদুরাবাদ ঘাট রুটে রেল সংযোগসহ ২য় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধা নাগরিক সংসদের উদ্যোগে ৩ দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের অবহেলিত উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের দাবিকে সামনে রেখে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে গাইবান্ধার গৌর পার্ক এলাকায় আলোচনা সভার মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ সমাজ, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুঃখ-দুর্দশা, যোগাযোগ সংকট ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে বালাসী ঘাটে ২য় যমুনা সেতু এখন সময়ের দাবি। তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বালাসী-বাহাদুরাবাদ” রুটে “বহুমুখী সেতু” নির্মাণ করা হলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
সভায় বক্তারা আরও বলেন, রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা প্রতিবছর আলু, ভুট্টা, মরিচ, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করলেও সঠিক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দিনাজপুরের চাল, গাইবান্ধার ভুট্টা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটের কৃষিপণ্য দ্রুত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছাতে না পারায় কৃষকদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়।
তাদের দাবি, বালাসীতে সেতু নির্মাণ হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত আটটি জেলার মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে, শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে, গাইবান্ধায় মেডিকেল কলেজসহ বড় বড় শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বেকারত্ব কমবে এবং অঞ্চলের মানুষের বহু বছরের কষ্ট ধীরে ধীরে দূর হবে।
বক্তারা আরও বলেন,
“উত্তরাঞ্চলের মানুষ যুগের পর যুগ অবহেলার শিকার। একটি আধুনিক সেতু শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি হবে উত্তরবঙ্গের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সেতুবন্ধন।”
কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে আজ ( ৯ মে শনিবার বিকালে) ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট এলাকায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। তৃতীয় দিনে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
এ সময় গাইবান্ধা নাগরিক সংসদের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply