1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
এক স্ত্রীর চার বিয়ে :চতুর্থ স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলায় স্ত্রী কারাগারে,স্বামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত  - dainikbijoyerbani.com
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ন
ad

এক স্ত্রীর চার বিয়ে :চতুর্থ স্বামীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি মামলায় স্ত্রী কারাগারে,স্বামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত 

গোলাম কিবরিয়া বরগুনা :
  • Update Time : সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
  • ৮ Time View

 

বরগুনায় স্ত্রীর করা চেক জালিয়াতি মামলায় স্বামীকে বেকসুর খালাস দিয়ে শারমিন আক্তার নামের স্ত্রীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এ মামলায় অভিযুক্ত স্বামী মো: জসীম উদ্দীন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম জজ (বিচারক) মো: খালেকুজ্জামান। এ মামলার বাদী শারমিন আক্তার এর আগে আরো তিন বিয়ে করেছেন। স্বামী মো: জসিম উদ্দিন হাওয়াদার ওরফে বিদ্যুৎ জসিম তার চতুর্থ স্বামী বলে জানা যায়।

গতকাল বুধবার জেলা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ন জজ বরগুনার আদালত অভিযুক্ত স্বামীসহ সকল আসামিদেরকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন। একই আদেশে যুগ্ম জজ বাদী শারমিন আক্তার রুমাকে ৪ ঘন্টার জেল দেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বরগুনা জেলার বামনা উপজেলা সদরের কালিকাবাড়ি গ্রামের মো: আবদুস সালাম ওরফে বিদ্যুৎ সালামের মেয়ে মোসা: শারমিন আক্তার রুমা তার প্রথম স্বামীকে তালাক দেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর বামনা উপজেলার সদরের পূর্বসফিপুর গ্রামের মো: জসীম উদ্দীন হাওলাদারের সাথে ডৌয়াতলা কাজী অফিসে বসে মুসলিম শরিয়া আইনের বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এর কিছু দিন স্বামি মো: জসীম উদ্দীন হাওলাদার ব্যবসায়িক কাজে বিদেশে চলে যান।

স্বাধীন মো: জসিম উদ্দিন হাওলাদার জানান, তার স্ত্রী শারমিন আক্তারকে বিবাহের পর ডিপোজিট নিরাপত্তার জন্য মো: জসীম উদ্দীন তাকে ৩০ লাখ টাকার একটি চেক ও স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন। তবে স্বামি জসিম উদ্দিন পরবর্তীতে বিদেশ চলে যাওয়ায় শারমিন আক্তার ওই চেক দিয়েই জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও চেক ডিজঅনারের একটি চেক জালিয়াতি মামলা দায়ের করেন।

মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় আদালত দেখতে পান, মামলার আরজিতে উল্লেখিত চেক নম্বর এবং আদালতে দাখিল করা চেকের নম্বরের মধ্যে অসঙ্গতি গড়মিল রয়েছে। এছাড়াও আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলার নথিতে স্ত্রী কলম দিয়ে সংশোধনের অভিযোগও উঠে। এছাড়াও আদালতে শুনানিকালে বাদী শারমিন আক্তার রুমা তার দ্বিতীয় বিবাহের বিষয়টি অস্বীকার করেন। এছাড়া ফ্ল্যাট ক্রয় সংক্রান্ত কোনো বৈধ চুক্তিপত্রও উপস্থাপন করতে পারেননি। শুনানি শেষে আদালত মামলাটিকে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর বিবেচনা করে বাদীকে কারাগারে পাঠানোর পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই সময় আদালত মামলার অভিযুক্ত স্বামী মো: জসীম উদ্দীন হাওলাদারসহ অন্য আসামিদের বেকসুরখালাস প্রদান করেন।

এ বিষয়ে স্বামী জসিম উদ্দিন জানান আমাদের মামলার শুনানিতে জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জজ আমাদের বিবাহের কাবিন নামা সম্পর্কে তাকে শারমিন আক্তারকে জিঙ্গেস করলে তিনি বলেন, এটা ঝাল কাবিন নামা। তালাকের বিষয় জিজ্ঞেস করলে বলে সেটাও নাকি ঝাল, এমনকি তার ভোটার আইডিতে আমার নাম সেটাও নাকি ঝাল। তখন বিচারক স্ত্রীর আইনজীবীকে বলেন আপনার মক্কেল এসব কি বলে, তখন তার উকিল বলে স্যার আমার মক্কেল মিথ্যা বলছে। এসময় আদালত স্ত্রী শারমিন আক্তারকে গারদে আটকে রাখার নির্দেশ দেন। একইসময় বিচারক আমাদেরকে বেকসুর খালাস দেন।

এসময় তিনি আরো বলেন , ইতিপূর্বে এই শারমিন আক্তার রুমা সে আরো তিনবার বিবাহ বসেছেন। আমি তার চতুর্থ নাম্বার স্বামী। তার প্রথম বিবাহ হন ১৭/০৯/২০০২ ইং। দ্বিতীয় বিবাহ ২৩/০৬/২০২৩ ইং। তৃতীয় বিবাহ হন ০৭/০৯/২৪ ইং ও চতুর্থ বিবাহ হন ১০/০৫/২০২৫ ইং। স্বামি জসিম উদ্দিন বলেন, বরগুনার আলোচিত মিন্নীকেও হার মানিয়েছে এ শারমিন আক্তার রুমা। আমার সাথে বিয়ের আগেও ওর তিনবার বিয়ে হয়েছিলো। আমি তা জানতাম না। বিয়ের তাকে বিয়ে করে তিন মাস পরেই বিদেশ যাই যাই। সে এই সুযোগে আমাকে তালাক দিয়ে আগের স্বামীর সাথে আবার সংসার শুরু করেন। আমি এই ছলোনাময়ী নারীর কঠিন বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্ত্রী শারমিন আক্তারের আইনজীবী অ্যাড. মো: রুহুল আমিন বলেন, কাবিন মুলে শারমিন ও জসিম উদ্দিন তারা স্বামী স্ত্রী। কিন্তু পরে মামলার বাদী তার স্বামী জসিমকে তালকও দেয় কিন্তু কোর্টে বসে ওই মেয়ে বলে উনি আমার স্বামী না, আমাদের কোন বিয়েই হয়নি। স্বামী জসীম উদ্দীন তার স্তী বিরুদ্ধে চেকবই চুরি উদ্বারের জন্য ৯৮ ধারায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বরগুনা অতিরিক্ত জজকোর্ট বিচারাধীন আছে। উক্ত চেক নিয়ে শারমিনের বাবা গত ১৮/১২/২৪ ই একটি জাল জালিয়াত ও প্রতারনা জি আর মামলা করেন। যার মামলা নং- ১০২/২৪ বামনা। পরবর্তী ঐ একই চেক দিয়ে শারমিন তার স্বামীর নামে এনআইএ্যাকট১৩৮ ধারায় মিথ্যা মামলা করেন। জসীম ঊদ্দীন উক্ত মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অত্র মামলার শুনানি শেষে আমি বাসায় চলে আসি। পরে কি হয়েছে তা আমি জানি না।

এ বিষয়ে আসামী মো: জসিম উদ্দিন হাওলাদারের অ্যাডভোকেট মো: তপু রায়হান বলেন, এ মামলার শুনানির সময় আদালতের কাছে মনে হয়েছে বাদী শারমিন আক্তার মিথ্যাবাদী, সে মিথ্যা কথা বলতেছে। পরে বাদী শারমিন আক্তার রুমাকে আদালত ৪ ঘন্টার জেল দেন। একই সময় অত্র মামলার আসামিদেরকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেছেন।

ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি