
বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন সংলগ্ন নদীতে পরিত্যক্ত সাবমেরিন ক্যাবল উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি প্রকাশিত খবরের প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলন’ নামে একটি সামাজিক সংগঠন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ প্রতিবাদ জানানো হয় এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য মো. আবুল বাশার। তিনি জানান, তাদের সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে রূপাতলী গ্যাস্টারবাইন ও হাড্ডির মিল এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ, বর্জ্য অপসারণ ও বৃক্ষরোপণসহ নানা সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি বলেন, রূপাতলী হাড্ডির মিল সংলগ্ন নদীর তলদেশে একটি বিদ্যুৎ সংযোগের সাবমেরিন ক্যাবল দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। লাইনটি থেকে তামা ও তার চুরির অভিযোগ ওঠায় তারা বিষয়টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-কে অবহিত করেন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ক্যাবলটি উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়।
সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট সকালে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা মো. রফিকুলসহ একটি ডুবুরি দল নদীতে ক্যাবলের সন্ধান শুরু করে। সংগঠনটির প্রতিনিধি ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বেলা ২টা পর্যন্ত অভিযান চলার পর দুপুরের খাবারের বিরতি দিয়ে কার্যক্রম পরের দিন (রবিবার) পর্যন্ত স্থগিত করা হয়।
তবে অভিযোগ করে আবুল বাশার বলেন, ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ২টার দিকে স্থানীয় এক জেলে নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে দুটি স্টিলবডি ট্রলার ও একটি বালু কাটার ড্রেজার দেখতে পান। সেখানে ২০-২২ জনের একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু কেটে নদীর তলদেশ থেকে ওই ক্যাবলটি উত্তোলনের চেষ্টা চালায়।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানান, সম্প্রতি এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আংশিক ও অসম্পূর্ণ তথ্য এসেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এ ধরনের অসত্য সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, নদীর তলদেশের ওই পরিত্যক্ত ক্যাবলের প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং গভীর রাতে অবৈধভাবে ক্যাবল উত্তোলনের নেপথ্যে থাকা চক্রটিকে চিহ্নিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বিপর্যয় প্রতিরোধ আন্দোলনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply