1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
পলিথিনেই যাদের বসবাস - dainikbijoyerbani.com
বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন
ad

পলিথিনেই যাদের বসবাস

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
  • ১৪ Time View
কলাপাড়া,প্রতিনিধি
সহজ সরল সাদামনের মানুষ হাবিব হাওলাদার। বাস করেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে। তাও আবার নিজস্ব সম্পত্তিতে নয়, বেরিবাদের বহিরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায়। পেশায় তিনি কখনও কৃষক, কখনও শ্রমিক, কখনও ফেরিওয়ালা, আবার কখনো কখনো জেলে। যখন যেটা পায় তা করেই চলে বেঁচে থাকার লড়াই। হারভঙ্গা খাটুনি খেটে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন সেই বাল্যকাল থেকে। এখন তিনি ৫০ এর বৃদ্ধ। দাম্পত্য জীবনে সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন হালিমা বেগমকে। তার বয়স এখন ৪৫ ছুই ছুই। একসাথে কাটিয়েছেন ৩০ বছরেরও বেশী সময়। দুজনের সংসার জীবন সুখে কাটলেও শত চেষ্টা করেও হতে পারেননি স্বাবলম্বী। খেতে পারেননি ভালো খাবার, থাকতে পারেননি ভালো ঘরে, ঘুমাতে পারেননি আরামের বিছানায়, টেনেটুনে চলছে কোনমতে।
দিনমজুর হাবিব বলেন, সুহে (সুখে) থাহার লাইগ্গা আমি শুধু একলা না। আমার সাথে আমার স্ত্রী হালিমা বেগমও কাম করে। বর্তমানে আমি নদীতে মাছ ধরি। লগে যায় হালিমা। সেও আমার লগে জাল ফেলা থেকে শুরুকইরা মাছ বাছাইএর কাম, জাল হুগানো ( শুকানো ) সব করে। শুধু এই ভাবি যদি ভাগ্যের চাকা ঘূরাইতে পারি। কিন্তু হয় না। রোগ শোক পোলা,মাইয়া নাতি-নাতনির ঝামেলা মিডাইয়া হিসেবের খাতা শূন্য। হেইলইগ্গা থাকার ঘরডাও( থাকার ঘর ) ভালোভাবে উডাইতে পারিনাই। তাই বাধ্য হইয়া থাকি গোলপাতা ও পলিথিন দিয়া। শীতে কষ্ট, বৃষ্টিতে ভিজি, বইন্নার সময়   ( ঝড়ের সময় ) ডর করে। ভাবি এই বুঝি উড়ে গেল। কথাগুলো বলতে হাবিব অশ্রুসিক্ত হয়ে যান। আর গামছায় চোখ মুছতে থাকেন। এখন তার ঝড়-বৃষ্টি, শীতে একটু আরামে থাকতে প্রয়োজন ভালো ঘর। কিন্তু স্বাদ আছে সাধ্য নাই। তাই সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতা চান যাতে করে একটু ভালো ঘর উঠাতে পারেন। আর তাতে বাকি জীবন টুকু শান্তিতে থাকতে পারেন।
হালিমা বেগম বলেন, স্বামীর সংসারে আইয়া তার ভালোবাসা পাইছি ঠিকি এ্যাছাড়া আর কিছুই পাইনাই। না পারছি পেন্দনে ( পড়নে ) ভালো কাপড় পড়তে, না পারছি ভালো জিনিসটা খাইতে, না পারছি সুহের বিছানে ঘুমাইতে। জীবনডা গেল কষ্টে কষ্টে। তয় ও ব্যাডারে আর কি কমু চেষ্টা হরে কিন্তু পাইরা ওডেনা। সব তো নিজের চোহের সামনে দেহি। এহন আল্লা ছাড়া আর আমাগো কেউ নাই। হে যা করে। তয় মোগো ঘরটা যদি কেউ উডাইয়া দেতে হেইলে নুন হউক আর পান্তা হউক যা খাই না খাই একটু শান্তিতে থাকতে পারতাম।
প্রতিবেশী পারভিন বেগম বলেন,আসলেই তারা দুজন অনেক কষ্ট করেন। গরিব মানুষ কাজকাম করে খায়। টাকা গুছাইয়া ঘরটা যে উঠাইবে সে সম্বল নাই। পোলাপান আছে তারাও গরিব। বিবাহ করে দুরে থাকে। তারা নিজেরাই তেমন সাবলম্বী না। যার জন্য বাবা মার দিক তেমন খোঁজ খবর রাখতে পারেনা। তয় মাঝে মধ্যে ঔষধ পাতি কিন্নাদেয়। এ ছাড়াও ওই দুইজনে যা পারে তা দিয়াই চলে। ঘরের অবস্থা খুবি খারাপ। ঝড় বাদল আইলে অনেক সময় আমাদের ঘরে ডাকি কিন্তু আয় না। এখন কেউ যদি  ঘরটা তাদের করে দেয় বা সরকার হইতে যদি পায় তবে ওনাদের অনেক উপকার হয়।
এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউসার হামিদ বলেন, এই মুহূর্তে টিনের বরাদ্ধ নেই, জুন মাসে বরাদ্ধ আসবে। ওই ঘরের সদস্যরা আবেদন করলে সহায়তা করবেন বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি