
ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, একটি যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন আমাদের আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। আর সেই যুদ্ধটি হলো জনগণকে দেওয়া আমাদের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি (কমিটমেন্ট) বাস্তবায়ন করা।
শনিবার (৯ মে) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রদল, যুবদল এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি যুদ্ধের সমাপ্তি হয়েছে, তবে এখন আরেকটি যুদ্ধ শুরু হয়েছে। সেই যুদ্ধ হলো দেশের মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবে রূপ দেওয়া।
তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি রাষ্ট্র গঠন করতে চায় যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং নাগরিকরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপদ চলাচলের পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, অতীতের কর্তৃত্ববাদী শাসনামলে বিএনপি নেতাকর্মীরা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হলেও দলটি সবসময় গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পক্ষে ছিল। দেশে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্কের সুযোগ নিশ্চিত হবে।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগেই ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং মাঠপর্যায়ে নেতাকর্মীরা সেই চ্যালেঞ্জ অনুভব করেছেন। তবে দেশের জনগণ বিএনপির প্রতি আস্থা রেখে দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে সমর্থন দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ইশতেহারটি ছিল শুধু জাতীয়তাবাদী দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। কিন্তু সরকার গঠনের পর সেটি এখন পুরো দেশের মানুষের প্রত্যাশায় পরিণত হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, দেশের ৫২ শতাংশ ভোটার সরাসরি বিএনপির ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাই জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণে দলীয় নেতাকর্মীদের আরও বেশি দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হলে সরকারের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহিতা, সুশাসন ও কার্যকর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক শক্তি ধরে রেখে জনগণের পাশে থাকারও নির্দেশনা দেন তিনি।
জেবি/এএস
Leave a Reply