
ছবি: সংগৃহীত
নিজেদের ভূখণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে দখলদার ইসরায়েল ও অবৈধ বসতিস্থাপনকারীদের নানা নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন ফিলিস্তিনিরা। সময়ের সঙ্গে সেই নির্যাতনের মাত্রা আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। এবার জীবিত নয়, মৃত্যুর পরও এক ফিলিস্তিনিকে অসম্মানের শিকার হতে হয়েছে। সদ্য দাফন করা এক ফিলিস্তিনির মরদেহ কবর থেকে তুলে অন্য জায়গায় পুনরায় দাফন করতে বাধ্য করা হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পশ্চিম তীরের নতুন গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরায়েলি বসতি সা-নুরের কাছে এক ফিলিস্তিনিকে দাফন করা হয়েছিল। পরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা অভিযোগ তোলে, কবরটি তাদের বসতির খুব কাছাকাছি স্থানে করা হয়েছে। এরপর তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খোঁড়ার সরঞ্জাম নিয়ে কবর থেকে মরদেহ তুলে ফেলার চেষ্টা চালায়।
ঘটনার খবর পেয়ে আশপাশের ফিলিস্তিনিরা দ্রুত সেখানে জড়ো হন। এ সময় বসতিস্থাপনকারীদের সঙ্গে তাদের উত্তেজনা ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পৌঁছালেও তারা মরদেহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং সেনাদের উপস্থিতিতেই ফিলিস্তিনিদের মরদেহ কবর থেকে তুলে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে পুনরায় দাফন করতে বাধ্য করা হয়।
ঘটনার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, আইনের শাসন বাধাগ্রস্ত করা এবং জীবিত ও মৃত মানুষের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো ঘটনার বিরোধিতা করে তারা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনী আরও জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করেই ওই মরদেহ প্রথমে দাফন করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন নিষিদ্ধ। তবে এসব আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালাকে উপেক্ষা করে ইসরায়েল নিয়মিতভাবে নতুন নতুন বসতি নির্মাণ করে যাচ্ছে। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, এসব অবৈধ বসতি নির্মাণের মাধ্যমে তাদের জমি দখল করে নেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনকে ক্রমেই অনিরাপদ ও দুর্বিষহ করে তোলা হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
জেবি/এসডি
Leave a Reply