1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
ভারতে ক্ষোভে ফুঁসছে জেন-জি, মোদীকে ধাক্কা দেবে তেলাপোকা জনতা পার্টি? - dainikbijoyerbani.com
শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ০৬:৫১ অপরাহ্ন
ad

ভারতে ক্ষোভে ফুঁসছে জেন-জি, মোদীকে ধাক্কা দেবে তেলাপোকা জনতা পার্টি?

আন্তজার্তিক ডেস্ক
  • Update Time : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
  • ১১ Time View

 

ছবি: সংগৃহীত

ভারতে তরুণ প্রজন্মের (জেন-জি) অসন্তোষকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে একটি ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন আন্দোলন—‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’। দাবি করা হচ্ছে, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল নয়, বরং সরকারবিরোধী ক্ষোভ ও ব্যঙ্গের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।

২০২৬ সালের ১৬ মে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী অভিজিৎ দীপক এই উদ্যোগ শুরু করেন। তিনি এর আগে আম আদমি পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

আন্দোলনের সূত্রপাত হয় ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে ঘিরে। ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণদের উদ্দেশে ‘তেলাপোকা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ ধরনের মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপরই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে।

পরদিনই দীপক এক্স (সাবেক টুইটার)-এ ‘সব তেলাপোকার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম’ চালুর ঘোষণা দেন। সেখানে সদস্য হওয়ার শর্ত হিসেবে ব্যঙ্গ করে বলা হয়—বেকার, অলস, সারাক্ষণ অনলাইনে থাকা এবং অভিযোগ করার দক্ষতা থাকতে হবে।

১৬ মে ওয়েবসাইট চালুর পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি সদস্য যুক্ত হওয়ার দাবি করা হয়। পরবর্তীতে সদস্য সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে বলেও জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আন্দোলনটি। ২১ মে পর্যন্ত ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হয়। একপর্যায়ে অনুসারীর সংখ্যায় এটি ভারতের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টকেও ছাড়িয়ে যায়।

ওয়েবসাইটে তাদের ঘোষিত ‘ভিশনে’ বলা হয়, এটি কোনো প্রচলিত রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, বরং করদাতার অর্থ ব্যয় ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ। সেখানে দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যয় ও নীতিনির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তোলাকে মূল উদ্দেশ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

একই সঙ্গে একটি ব্যঙ্গাত্মক ইশতেহারও প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংসদীয় নীতি এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে—সিনিয়র বিচারপতিদের অবসরের পর রাজনৈতিক সুবিধা বন্ধ, ভোটাধিকার সংক্রান্ত অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা, নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব, গণমাধ্যমের লাইসেন্স নীতিতে পরিবর্তন এবং দলবদলকারীদের দীর্ঘ সময়ের জন্য নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা।

আন্দোলনের উদ্যোক্তা দীপক বলেন, এটি মূলত তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভের প্রতিফলন। তার দাবি, সরকার তরুণদের উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হলেও ভবিষ্যতে বাস্তব আন্দোলনেও রূপ নিতে পারে।

তবে সমালোচকরা বলছেন, এটি মূলত একটি ডিজিটাল প্রচারণা, যার দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ভিত্তি নেই। মোদী সমর্থকদের একাংশ একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন ক্যাম্পেইন বলেও দাবি করেছে।

এদিকে ভারতের কংগ্রেস নেতা শশি থারুর এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধের সমালোচনা করে বলেন, তরুণদের হতাশা ও ব্যঙ্গ প্রকাশের জায়গা থাকা উচিত এবং এমন প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করা অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত।

তিনি মনে করেন, এই ধরনের আন্দোলন মূলধারার রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণের একটি নতুন সংকেত। ভারতের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় বেকারত্ব, আয় বৈষম্য ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও বিশ্লেষকদের মত

বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও বেকারত্বের হার তুলনামূলকভাবে বেশি—যা তরুণদের হতাশা আরও বাড়াচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ এখন ভারতের ডিজিটাল রাজনীতিতে ব্যঙ্গ ও প্রতিবাদের একটি নতুন প্রতীক হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি