
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবির ঘটনায় ১৮ জেলের মধ্যে ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া চর বিজয় সংলগ্ন এলাকায় আরেকটি মাছ ধরার ছোট ট্রলার ডুবির ঘটনায় একজন জীবিত উদ্ধার হলেও পাঁচ জেলের কোনো সন্ধান মেলেনি। পরপর দুটি দুর্ঘটনায় উপকূলীয় জেলেদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে তালতলী উপজেলার ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র থেকে ১৩ জন জেলেকে নিয়ে মো. তপন জোমাদ্দারের মালিকানাধীন এফবি মহিমা নামের ট্রলারটি গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরে ঘাটে ফেরার পথে আরেকটি ট্রলার থেকে পাঁচজন জেলে এফবি মহিমা ট্রলারে ওঠেন। বিকাল পৌনে ৬ টার দিকে হঠাৎ সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার সময় জেলে কালাম ও শহীদ ট্রলারের কেবিনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। ট্রলারটি উল্টে গেলে তারা কেবিনে আটকা পড়ে দ্রুত তলিয়ে যান। অপর জেলেরা সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে রাত প্রায় ৩টার দিকে তাদেরকে ভাসতে দেখে একটি মাছধরা ট্রলার ১২ জন এবং আরেকটি ট্রলার ৪ জন জেলেকে উদ্ধার করে নিরাপদে ঘাটে নিয়ে আসে।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে দুলাল মাঝি, কামাল, মনির, ইমরান, জামাল, শামীম, খলিল, হৃদয়, আশরাফুল, ফারুক ও আল-আমিনসহ মোট ১৬ জন রয়েছেন। তাদের সবাই তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা। নিখোঁজ কালাম ও শহীদও একই ইউনিয়নের বাসিন্দা।

ট্রলারের মালিক মো. তপন জোমাদ্দার বলেন, ‘হঠাৎ করেই সাগর খুব বেশি উত্তাল হয়ে যায়। প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে ডুবে যায়। আমাদের দুই জেলে এখনও নিখোঁজ। ট্রলার নিয়ে তল্লাশি চালানো হয়েছে। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল থাকায় বর্তমানে তল্লাশি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলেই তাদের উদ্ধারে আবারও অভিযান চালানো হবে।’
ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান ফরাজী জানান, ‘গভীর সমুদ্রে থাকা অন্যান্য ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারের জন্য ট্রলার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় উদ্ধারকারী ট্রলার সমুদ্রে যেতে পারছে না।’
তালতলী কোস্টগার্ড স্টেশনের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার আশরাফুল আলম বলেন, ‘বৈরী আবহাওয়া ও সাগর উত্তাল থাকার কারণে এখনও উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয়নি। আবহাওয়া অনুকূলে এলেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া ১৬ জেলের চিকিৎসা ও সার্বিক বিষয়ে প্রশাসন নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে।’
এদিকে বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় আরেকটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝি জীবিত উদ্ধার হলেও অন্য পাঁচ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) রাজু আহমেদ রাজা মিয়া বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সাগর অত্যন্ত উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুকূলে এলে অভিযান জোরদার করা হবে। প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।’
Leave a Reply