1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
শ্রমে-ঘামে বদলে দেওয়ার চেষ্টা গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা - dainikbijoyerbani.com
শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩৫ অপরাহ্ন
ad

শ্রমে-ঘামে বদলে দেওয়ার চেষ্টা গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৬ Time View

ইমাম হোসেন হিমেল বিশেষ প্রতিবেদক

নিজেদের চলাচলের পথ নিজেরাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন একদল তরুণ। সরকারি সহায়তার অপেক্ষায় না থেকে স্বেচ্ছাশ্রমে মাটি কাটা, ভাঙা ইট বহন, রাস্তা সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা তৈরিতে কাজ করছেন তারা। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে কাঁধে তুলে নিচ্ছেন মাটির ঝুড়ি, হাতে ধরছেন কোদাল—এভাবেই এগিয়ে চলছে তাদের কাজ।

সম্প্রতি ধারণ করা ছবিতে দেখা যায়,মানবতার ডাক সংগঠনের কয়েকজন তরুণ একসঙ্গে মাটি ও ভাঙা ইটের স্তূপ তৈরি করছেন। কেউ কোদাল দিয়ে মাটি কাটছেন, কেউ ঝুড়িতে করে মাটি বহন করছেন। আবার কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পানি চলাচলের জন্য কালভার্টের পাইপ বসানোর কাজেও দেখা গেছে।

কাজে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে কারও হাতে কোদাল, কারও মাথায় মাটিভর্তি ঝুড়ি। সাধারণ পোশাকেই তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছেন এই উদ্যোগে। তাদের কাজের দৃশ্য যেন বলে দেয় ইচ্ছা ও সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে সীমিত সামর্থ্য দিয়েও গ্রামের একটি সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসা সম্ভব। স্থানীয় গ্রামীণ সড়কের অনেক অংশে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়। কোথাও রাস্তার মাটি সরে যায়, কোথাও তৈরি হয় গর্ত। এতে পথচারী, কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিবহন ও জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বাড়ে।

একটি রাস্তার নিচ দিয়ে পানি চলাচলের জন্য বড় আকারের কংক্রিটের পাইপ স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশেই কয়েকজন তরুণ দাঁড়িয়ে আছেন। ধারণা করা যায়, রাস্তার পানি নিষ্কাশন ও যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখতে তারা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন।
ছবিতে দেখা যায়, মাথায় মাটিভর্তি ঝুড়ি নিয়ে রাস্তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন দুই তরুণ। তাদের পেছনে আরও কয়েকজনকে কাজ করতে দেখা যায়। কারও হাতে রয়েছে বালতি, কেউ মাটি বহনের কাজে ব্যস্ত। এই দৃশ্য গ্রামীণ মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
শুধু রাস্তা সংস্কার নয়, এমন স্বেচ্ছাশ্রমের উদ্যোগ একটি এলাকার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাও বাড়ায়। তরুণদের অংশগ্রহণ সেখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিজেদের এলাকার সমস্যা নিজেদের উদ্যোগে সমাধানের চেষ্টা অন্যদেরও সামাজিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারবেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীদের যাতায়াতও সহজ হবে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য স্থানীয় সড়কগুলোর নিয়মিত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।

স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করা তরুণদের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি রাস্তা মেরামতের ঘটনা নয়; এটি নিজেদের এলাকার প্রতি দায়িত্ববোধেরও প্রকাশ। নিজেদের শ্রম দিয়ে তারা দেখিয়ে দিচ্ছেন—পরিবর্তনের জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না, সম্মিলিত সদিচ্ছা ও শ্রমই অনেক সময় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
গ্রামের মাটির রাস্তা, হাতে কোদাল, মাথায় মাটির ঝুড়ি আর একদল তরুণের সম্মিলিত শ্রম—ছবিগুলোতে ফুটে উঠেছে সেই প্রত্যয়েরই গল্প। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার প্রত্যাশায় তাদের এই উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি অন্যদের জন্যও হতে পারে অনুপ্রেরণার।

 

ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি