
মহিপুরে ভূমি দখল বানিজ্য অব্যহত।।
মোঃ জাহিদ কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ
পটুয়াখালীর মহিপুরে চলছে
দুর্নিতি, অনিয়ম, অবৈধ পন্থায় ভূমি দখলের অভয় অরন্য। অদৃশ্য রক্ষাকবচ অথবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরহীন নিরব চুক্তিনামায় ভূমি বন্দোবস্তের নামে চলছে এই দখল সন্ত্রাস।
দৃশ্যমান, মহিপুর সদরেই প্রকাশ্যে চলছে এমন অনিয়ম ও দুর্নিতি। এক বছরের (চান্দিনা) বন্দোবস্তকৃত ভিটায় তোলা হচ্ছে বহুতল ভবন, কোথাও কোথাও ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে হচ্ছে শিববাড়িয়া খালের চর দখল, কারো তোয়াক্কা না করে সরকারী খাসজমি ও পাউবোর জমি ভরাট করে হচ্ছে বহুতল ভবন নির্মান। প্রবাহমান নদীতে অবাধে প্রাচীর তুলে জমি বিক্রি। আর দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম ও দুর্নিতির কার্যক্রম অব্যহত থাকলেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ রয়েছে উদাসীনতার ভূমিকায়।
মহিপুর সদর ইউপির নজীবপুর ৫ নং ওয়ার্ডে জমি বন্দবস্তের নামে, বঙ্গবসাগর মোহনা সংলগ্ন বিশাল এলাকা জুড়ে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ভরাট করে তৈরি হয়েছে একাধিক স্থাপনা। যাতে আজ বিলিনের পথে জেলে পোতাশ্রয় খ্যাত শিববাড়িয়া খাল এবং পাশাপাশি বিশালাকৃতির শত শত ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ কেটে ধ্বংস করা হয়েছো সবুজ বনাঞ্চল।
এসব দখলদারদের দাবি সরকারী বন্দোবস্ত পেয়েই তারা ঘরবাড়ি নির্মান করছেন। তবে অধিক অংশের দখলদারদের বন্দবস্তের সত্যতা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন পুকুর দখল করেও নির্মান করা হচ্ছে পাকা স্থাপনা। মহিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন পাউবো জমি বিনা অনুমতিতে বালু দিয়ে ভরাট করে করা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। কিন্তু তেমন তৎপারতা চোখে পড়েনি পাউবো কর্তৃপক্ষের।
অন্যদিকে কিছু প্রভাবশালী একটি মহল পাউবো অধীনস্ত একটি পুকুর বন্দবস্ত নামে বালুভরাট করে ভিটা বানিজ্যের পায়তারা চালাচ্ছে। তবে বর্তমানে সকল প্রকার বন্দবস্ত দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে জানান কলাপাড়া পাউবো কর্তৃপক্ষ। এ বিষয় কলাপাড়া পানিউন্নয়ন বোর্ড’র (পাউবো) মহিপুর শাখা দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তারিকুর রহমান (তুহিন) জানান, যারাই পুকুর/ জমি দখল করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।ইতোমধ্যে তালিকা করে পাঠানো হয়েছে।
অন্য দিকে মহিপুর সদরের পূর্বপাশে সুইজ গেট এলাকায় শিববাড়িয়া নদীর মধ্যেই প্রাচীর তুলে দখল করছে কলাপাড়ার এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় একটি ভূমিদস্যু সিন্ডিকেট দেয়াল তুলে নদী দখল করে বিক্রি করে দিয়েছে। জানতে চাইলে ওই বিএনপি নেতা বলেন, দেয়াল আমি নির্মান করিনি, নদীর মধ্যে ওই দেয়াল মানুষের চোখে দৃষ্টিকটু হলে আমি ভেঙ্গে ফেলবো। তবে দেয়াল তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাধা প্রদান করেছিলো কিনা জানতে চাইলে আমার জানা নেই বলে জানান। এছাড়াও মহিপুর বাজারের বিভিন্ন স্থানে তোলা হচ্ছে বহুতল ভবনসহ একাধিক পাকা স্থাপনা। তাদের অনেকেরই চান্দিনা ভিটির বন্দবস্ত থাকলেও সরকারী নিয়ম উপেক্ষা করে মহিপুর তসিল অফিস ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে নির্মাণ কার্যক্রম। এমন অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা।
দখল সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না কেনো এবং দায়িত্ব কার, জানতে চাইলে মহিপুর ইউনিয় ভূমি কর্মকর্তা মোঃ আজিজুর রহমান জানান, নজীবপুরের ব্যাপারে তিনি উপোরস্থ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। এছাড়া বাজারের মধ্যে যেসকল ভিটিতে স্থাপনা নির্মান করা হচ্ছে তারা ডিসিআর নিয়ে নির্মান করা হচ্ছে বলে জানান। তাকে নিয়ে কেউ অভিযোগ করলে তা ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে পাকা ভবন নির্মানের ব্যাপারে তার জানা নেই বলে জানান । এবিষয় কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) জগৎবন্ধু মন্ডল জানান, সব বিষয়গুলো দেখা হবে। কিন্তু নেওয়া হচ্ছেনা কোন ব্যবস্থ্য বরং প্রকাশ্যে চলছে অবৈধ দখল ও স্থাপনা নির্মান। কোনো ধরনের নিয়মের তোয়াক্কা না করেই দৃষ্টিকটু এমন দখলদারীত্বে যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে আইন, তেমনি ভাবিয়ে তুলেছে স্থানীয় সহ আগমী প্রজন্মকে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট এক অসাধু কর্তাব্যক্তিদের সম্মতি ও নিরব ভুমিকার জন্য বন্ধ হচ্ছে না সরকারী সম্পত্তি ও নদী দখলের মহোৎসব। এ বিষয় গুনী গনমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের ধারনা যে, সঠিক তথ্য ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের ইতিবাচক ভুমিকা নেয়া দরকার। প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা।
মোঃ জাহিদ
মহিপুর,কুয়াকাট।
১২.০৪.২০২১ ইং
০১৭১২৩৫০০৩৬
Leave a Reply