বার মাসই পানিতে ডুবে থাকে বিদ্যালয়ের মাঠ। জলাবদ্ধতায় সাঁতার কাটতে দেখা যায় গৃহপালিত হাঁসসহ অন্যান্য পশু-পাখিকে। বর্ষা মৌসুমে স্কুলের প্রবেশ পথটিও তলিয়ে যায়। খেলাধুলা তো দূরের কথা, আসা-যাওয়া করতে কষ্ট হয় শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। এমনই চিত্র কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। মাঠের অভাবে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানসিক বিকাশে বাধাঁর সম্মুখিন হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অথচ সামান্য কিছু অর্থ এবং কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা হলে খুব সহজেই এই সমস্যার পরিত্রাণ সম্ভব বলে মনে করছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ অভিভাবকরা।

0-0x0-0-0#
সরেজমিনে জানা যায়, ১৯২৭ সালে ৪১ নং নবীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। প্রায় শত বছরের পুরানো এ বিদ্যালয়টিতে এখনও নেই সুসজ্জিত খেলার মাঠ। রয়েছে পাঠদান কক্ষের সংকট। একতলা ভবনের এ বিদ্যালয়টিতে মোট ৩ টি কক্ষ রয়েছে। যার একটিতে অফিস এবং বাকী দুটি কক্ষে চলছে পাঠদান। নেই কোন বাউন্ডারি দেয়াল। শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে খেলাধুলা ও শরীর চর্চা থেকে। এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, খেলাধূলার মাঠ নাই। রাস্তা ভালো নাই, ওখানে ছেলে-মেয়েরা আচার-পাচার খায়। তারপর রুম নাই, দুইটা রুমে ক্লাশ হয়। আরো রুম লাগে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরোজা আক্তার পলি বলেন, “খেলার মাঠ নাই, বর্ষাকালে পানি জমে যায়। আমাদের আসতেও সমস্যা হয়। স্কুলে সুন্দর একটা রাস্তাও নাই। তারপর ক্লাশ রুমের সংকট। দুইটা ক্লাশ রুমে আমরা তিনটা ক্লাশ করাই এবং সুজ্জিত কোন কক্ষও নাই।”অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিরেন চন্দ্র পাইক জানান, বিদ্যালয়ের মাঠ নেই। যতটুকু রয়েছে সেটাতেও প্রায় বারো মাসই পানি জমে থাকে। রয়েছে শ্রেণী কক্ষের সংকট। বিদ্যালয়ের মাঠসহ অন্যান্য বিষয়গুলো উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন বলে তিনি জানান। কলাপাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শাহিদা বেগম বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হলাম। খুব শীঘ্রই আমি অথবা আমার প্রতিনিধি সরেজমিনে পাঠাবো।” অতিদ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
Leave a Reply