1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন - dainikbijoyerbani.com
রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
ad

মহিপুরে অবৈধ ট্রলিং বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬
  • ২৭ Time View

 

আরিফ হাওলাদার মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুরে বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং, নিষিদ্ধ জাল ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ দ্রুত ধ্বংস হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।‌

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বেলা ১১টায় মহিপুর প্রেসক্লাবের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. বেলাল মাঝি।

তিনি বলেন, গভীর সমুদ্রে বটম ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে। পাশাপাশি ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস ও রাডারের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাছের ঝাঁক শনাক্ত করে নির্বিচারে আহরণ করা হচ্ছে। এছাড়া বেহুন্দি জালসহ ছোট ফাঁসের নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের ফলে ডিমওয়ালা ও পোনা মাছ নিধন হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ মৎস্য উৎপাদনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, অবৈধ ট্রলিং বোটগুলো প্রায়ই সাধারণ জেলেদের জাল কেটে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব ঘটনায় প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেও অনেক সময় তা পাওয়া যায় না। এমনকি প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নীরব থাকার অভিযোগও তোলা হয়।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বঙ্গোপসাগরে মাছের উৎপাদন উদ্বেগজনক হারে কমেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগরে মাছের মজুত প্রায় ৭৮ দশমিক ৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। দেশের প্রধান মৎস্যসম্পদ ইলিশের উৎপাদনেও উল্লেখযোগ্য পতন ঘটেছে।

এ সময় হানিফ মাঝি নামে আরেক জেলে তার বক্তব্যে বলেন, আগে অল্প সময় সমুদ্রে গেলেই পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া যেত। এখন দিনের পর দিন সাগরে অবস্থান করেও কাঙ্ক্ষিত মাছ মিলছে না। অবৈধ ট্রলিংয়ের কারণে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন সাধারণ জেলেরা। দ্রুত এ কার্যক্রম বন্ধ না হলে উপকূলীয় হাজারো জেলে পরিবার চরম সংকটে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়,‌ মহিপুর-আলিপুরসহ উপকূলীয় মৎস্য বন্দরগুলোতে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থেকেও পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় হাজারো জেলে পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে। অনেকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তা পরিশোধ করতে না পেরে মামলা ও সম্পদ জব্দের হুমকির মুখে রয়েছেন। কেউ কেউ জীবিকার সন্ধানে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থাভাবে অনেক পরিবার খাদ্য, চিকিৎসা ও শিক্ষাসহ মৌলিক চাহিদা পূরণেও হিমশিম খাচ্ছে। জেলেদের অভিযোগ, প্রভাবশালী কিছু ট্রলার মালিক ও অসাধু চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আইন অমান্য করে অবৈধ ট্রলিং চালিয়ে বিপুল অর্থ উপার্জন করছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, গভীর সমুদ্রে নিয়মিত অভিযান, নিষিদ্ধ জাল জব্দ, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে মহিপুর উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ট্রলিং কার্যকরভাবে বন্ধ করতে বিদ্যমান মৎস্য আইন সংশোধন প্রয়োজন। তিনি জানান, কলাপাড়া উপজেলায় এ পর্যন্ত অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে জামিন নিয়ে আবারও সমুদ্রে মাছ ধরতে নেমে পড়ছেন। এছাড়া জনবল ও অর্থসংকটের কারণে সময়মতো অভিযান পরিচালনা সম্ভব হচ্ছে না। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার আইনি ক্ষমতা দেওয়া হলে অবৈধ ট্রলিং দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’

ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি