
দেশে আজ দশম দিনের মতো লকডাউন চলছে। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে আছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।
তবে দিন যত যাচ্ছে মানুষের মাঝে ততোই যেন বাড়ছে নিয়ম না মানার প্রবণতা। কিছুতেই যেন মানুষকে ঘরে রাখা যাচ্ছে না।
না মানছে লকডাউন, না মানছে স্বাস্থ্যবিধি। শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) সিলেট নগরীর বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, মেজরটিলা, শিবগঞ্জ, সোবহানীঘাটসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় প্রচুর অসংখ্য মানুষ। যাদের বেশিরভাগেরই মুখে মাস্ক নেই। নেই সামাজিক দূরত্ব।
অথচ শুক্রবার হওয়ায় অধিকাংশ মানুষেরই ছিল জরুরী কোন প্রয়োজন। তারপরও অনেকেই বাইরে বের হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই মুভমেন্ট পাস ছিল না।
এদিকে লকডাউন বাস্তবায়নে নগরীতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। রাস্তায় বাঁশ দিয়ে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে। এতো কিছুর পরেও মানুষকে আটকানো যাচ্ছে না।
নগরীর জিন্দাবাজার এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার রাহাদ আহমেদ। জিন্দাবাজার এলাকায় কয়েকজন বন্ধু নিয়ে হাটাহাটি করছিলেন। এমন সময় টহলরত পুলিশের সামনে পড়লে রাস্তায় বের হওয়ার বিশেষ কোন কারণ দেখাতে পারেন নি।
ছিল না মুভমেন্ট পাসও। পরে এই প্রতিবেদকের সাথে কথা হলে, এমসি কলেজের এই ছাত্র বলেন, মেসে সারাক্ষণ বসে থাকতে থাকতে বোরিং চলে এসেছে।
বিরক্তিভাবটা কাটানোর জন্যই বন্ধুদের নিয়ে একটু বের হলাম।
নগরীর চৌহাট্টা যাত্রী ছাউনিতে বসে গল্প করছেন বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরী করা, সাইদুর রহমান ও আবির হোসেন। এমন সময় তারা দায়িত্বরত পুলিশের জেরার মুখে পড়েন। বাইরে বের হবার কারণ জানতে চাইলে, পুলিশকে এর কোন সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেন নি কেউই। এসময় কারো মুখেই মাস্ক ছিল না।
অসহায় ওই পুলিশ সদস্য খানিকটা হতাশা নিয়েই বলছিলেন, ‘আপনাদেরকে নিরাপদ রাখতে আমরা রাস্তায় পড়ে থাকি। আর বিপরীতে আপনারা যা ইচ্ছে তাই কি করে চলেছেন।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (গণমাধ্যম) বিএম আশরাফ উল্যাহ তাহের বলেন, লকডাউন বাস্তবায়নে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। যারা আইন মানছেন না, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
Leave a Reply