
কাকন সরকার, শেরপুর:
“করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা এবং কৃষি মেলা-২০২৬। একই সাথে খরিপ-২ মৌসুমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ কর্মসূচিরও শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সকল কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন।
ফল ও কৃষি মেলার উদ্বোধন:
সদর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি অফিসের যৌথ আয়োজনে প্রথমে তিন দিনব্যাপী ‘জাতীয় ফল মেলা-২০২৬’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জনাব মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের পুলিশ সুপার এ. কে. এম. জহিরুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক এ. বি. এম. মামুনুর রশিদ।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে “বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প (১ম সংশোধিত)”-এর আওতায় তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি মেলা-২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মুসলিমা খানম নীলু।
বিনামূল্যে কৃষি উপকরণ বিতরণ:
মেলার উদ্বোধনের পর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন (উফশী) ধান ও মরিচ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ্ আসমা বিনতে রফিকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন কৃষকদের হাতে এই প্রণোদনা সামগ্রী তুলে দেন।
আলোচনা সভার মূল বক্তব্য:
উদ্বোধন শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ফল ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রণোদনার সুফল কৃষকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয় এবং সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক স্থানীয় কৃষক-কৃষাণী উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply