
আশাশুনির প্লাবিত জনপদে কবর না খুঁড়ে অভিনব পন্থায় ২ জনের দাফন সম্পন্ন
আবু সাঈদ
সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে জলাবদ্ধাতার কারনে কবর না খুঁড়ে ২ জনের দাফন কার্য সম্পন্ন করা হয়েছে। (১৭ জুন) বৃহস্পতিবার রাত্রে মাহমুদুল হাসান (৩৩) ও (১৮ জুন) শুক্রবার দুপুরে আরশাদ আলী সানা (৭৮) দ্বয়কে উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামে কবর না খুঁড়ে অভিনব পন্থায় দাফন করা হয়।
১৭ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক ৫:৩০ এ প্রতাপনগর গ্রামের শহিদুল ইসলাম গাজীর বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান (৩৩) নিজ কর্ম স্থল কলারোয়ায় স্ট্রোক করে ইন্তেকাল করেন। মুত্যুকালে তিনি ১ ছেলে, ১ মেয়ে ও স্ত্রী রেখে যান। একই দিন মাত্র ৫ ঘন্টার ব্যবধানে সকাল আনুমানিক ১০:৫৫ এ প্রতাপনগর গ্রামের ডা: আক্তারুজ্জামানের পিতা হাজী আরশাদ আলী সানা (৭৮) বার্ধক্য জনিত কারনে নিজ বাস ভাবনে মৃত্যু বরণ করেন।
আধুণিকতার আশির্বাদে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে আজ প্রতাপনগর সহ উপকূলের ৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত। গোটা ইউনিয়নে এলজিইডির কার্পেটিং রাস্তা ছাড়া যখন এক খন্ড ভূমি পানি মুক্ত নয় তখন জানাজা নামায তো দূরের কথা কবর দেওয়ার মত জায়গাও নাই। পানিতে দাড়িয়েই সমাপ্ত হয়েছে মৃত ব্যক্তিদ্বয়ের নামাজে জানাজা। কবর না খুঁড়ে সম্পূর্ণ পানির নিচ থেকে ইট দিয়ে ভিট তৈরি করে তার চারপাশ দিয়ে দেয়াল গেথে অভিনব কায়দায় তাদের দাফন কার্য সম্পন্ন হয়েছে।
প্রয়াত হাজী আরশাদ আলী সানার ছেলে ডা: আক্তারুজ্জামান বলেন, দুনিয়া থেকে মানুষের প্রস্থান স্বজনদের হৃদয়কে ব্যাথিত করে। তবে আমাদের ব্যাথার মাত্রাটা বহুগুন বেশি। প্লাবনের কারণে আজ বাবাকে মাটিতে দাফন করতে পারছি না। এর থেকে কষ্টের আর কি হতে পারে?
দিন কয়েক আগে ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মাওঃ আবুল কাশেম হুজুর ইন্তেকাল করেন। তাকেও নিজ মাতৃভূমি কুড়িকাহুনিয়াতে দাফন করা সম্ভব হয়নি। স্বজনরা ব্যথিত হৃদয়ে লাশ কাধেঁ নিয়ে পার্শ্ববর্তী উপজেলা শ্যামনগরের নিয়ে তাকে দাফন করেন।
Leave a Reply