
সিলেটে লকডাউনের কঠোরতায় আজ লাগেনি বৈশাখের রং।
রহিম উদ্দিন সিলেট জেলা প্রতিনিধি:
লকডাউনের কঠোরতায় আজ আর লাগেনি পহেলা বৈশাখের রং। মাহে রমজানের প্রথম দিন সবাই ঘরে থেকেই সিয়াম সাধনা করছেন। বাঙালির জীবনে আজ নতুন বছরের প্রথম দিন। আজকের সূর্যোদয়ের মধ্য দিয়ে সূচনা হলো বাংলা ১৪২৮ সালের।
কিন্তু সিলেটে গত বছরের মতো এবারও এই বৈশাখে নেই কোনো আনন্দ ও নেই রঙে রঙে মেতে উঠা। প্রতিবছর সিলেটে পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে নতুন সাজে সজ্বিত হয়। বর্ষবরণ করে নিতে আনন্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এবছর আর নেই সেই সব।
সিলেটের এমসি কলেজে, কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়াম,কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের সামনে, ক্বিন ব্রিজের নিচে ও বিভিন্ন স্কুল ও প্রাইভেট ভার্সিটিগুলোতে আয়োজন করা হয়ে থাকতো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। কিন্তু এবারও সিলেটে করোনা মহামারির কারণে বৈশ্বিক এই দুর্যোগের সময় সবার জীবন অবরুদ্ধ।
ঘরে বসে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে এবারও বাধ্য হচ্ছে সবাই। আজও প্রাণে প্রাণ মিলবে রাস্তা বা খোলা ময়দানে নয়, যার যার বাসায় কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, ম্যাসেঞ্জারে একে অন্যকে জানাচ্ছেন বৈশাখের শুভেচ্ছা।
এদিকে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় দফার কঠোর লকডাউনে’ ফাঁকা হয়ে পড়েছে সিলেট নগরী। বুধবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই লকডাউন বাস্তবায়নে কঠোর অবস্থানে গেছে পুলিশ।
ফলে কেউই বাড়ির বাইরে বের হতে পারেনি। খুব জরুরি প্রয়োজনে যারা রাস্তায় বের হচ্ছেন, তাদেরকে পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। যথাযথ কারণ দেখাতে ব্যর্থ হলে তাকে আবারও বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সিলেট শহরে প্রবেশমুখসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। বন্ধ রয়েছে শহরের সব মার্কেট, বিপণিবিতান এবং সব ধরনের দোকানপাট। শহরজুড়ে নেমে এসেছে যেন এক সুনসান নীরবতা।
এব্যাপারে সম্মেলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত সিলেট প্রতিদিনের সাথে আলাপকালে বলেন, প্রতিবার পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে সিলেট ক্বীন ব্রিজের নিচে সম্মেলিত নাট্য পরিষদের উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।কিন্তু এবছর করোনাভাইরাসের কারণে আমরা অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।
তবে সিলেটের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সবাই অনলাইনের মাধ্যমে ভার্চুয়াল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে। সেখানে গান, কবিতা, ছাড়া পরিবেশন করা হয়েছে।
তিনি বলেন,বর্ষবরণের এই দিনে আশা করি আগামী বছর আমরা যথাযথ মর্যাদায় পহেলা বৈশাখ পালন করতে পারবো। কঠিন সবাই একে অন্যকে সচেতন করা ও সরকারের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য-দেশে উচ্চহারে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় প্রথম দফায় মানুষের চলাচল ও কার্যক্রমে বিধি-নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।এরপর বুধবার (১৪ এপ্রিল) থেকে আটদিনের জন্য ‘কঠোর লকডাউন’ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
এই লকডাউনে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সব অফিস এবং গণপরিবহন বন্ধ থাকবে বলে ওই প্রজ্ঞাপনে নির্দেশনা জারি করেছে সরকার।
Leave a Reply