1. dainikbijoyerbani@gmail.com : দৈনিক বিজয়ের বানী : দৈনিক বিজয়ের বানী
  2. zakirhosan68@gmail.com : dev : dev
হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসী রাখাইনদের ভাষা ও সাংস্কৃতি - dainikbijoyerbani.com
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন
ad

হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসী রাখাইনদের ভাষা ও সাংস্কৃতি

Reporter Name
  • Update Time : রবিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৩
  • ১৬৮ Time View

 

আবুল বাশার

বাংলাদেশের আদিবাসী খ্যাত রাখাইন জন গুষ্টি, আরকানদের এদেশে আগমনের সাথে জড়িত ইতিহাস কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের কাছে রাখাইনদের বাসস্থল কেরানীপাড়ার শুরুতেই প্রাচীন কুয়ার অবস্থান।

ধারণা করা হয় ১৮ শতকে মুঘল শাসকদের দ্বারা বার্মা থেকে বিতাড়িত হয়ে আরকানরা এই অঞ্চলে এসে বসবাস শুরু করে। তাদের মাধ্যমেই এই স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা।বৌলতলী পারা মিশ্রিপাড়া বেতকাটা পাড়া আমখোলা পাড়া তুলাতলী পাড়া সহ আরোও অনেক পাড়ায় বসবাস শুরু করেন জনশ্রুতি আছে ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে বার্মিজ রাজা বোদ্রোপা আরকান জয় করে রাখাইনদের ওপর অত্যাচার ও নির্যাতন চালায়। ১৫০টি রাখাইন পরিবার বার্মিজদের হাত থেকে মুক্তির জন্য ৫০টি নৌকায় তিনদিন তিনরাত বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানাধীন মৌডুবি এলাকায় উপস্থিত হন। উক্ত অঞ্চলটি তখন বন জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তারা বনের হিংস্র জীব জন্তুর সঙ্গে যুদ্ধ করে, জঙ্গল কেটে পরিষ্কার করে ধান ফল-মূলের বীজ বপন করে জীবিকা নির্বাহ করতো । তখন ওই বনের কোন নাম ছিল না থাকলেও রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন তার নাম জানত না। যার ফলে সাগর পাড়ি দিয়ে ওই স্থানে বসবাস শুরু করায় রাখাইন ভাষায় তারা নামকরণ করে কানশাই। কিন্তু রাখাইন লোকজন এখানে বসবাস করলেও তাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাড়ায় পানি। সাগরের পানি লবণাক্ত হওয়ায় তা খাওয়া সম্ভবপর ছিল না। এজন্য তারা নিজ উদ্যোগে একটি কুয়া খনন করে তা থেকে মিঠা পানি পান করত। মিঠা পানির কুয়ার নামানুসারে স্থানটির নামকরণ হয় কুয়াকাটা। কুয়ার সন্নিকটেই তারা স্থাপন করে ৩৭ মণ ওজনের ধ্যানমগ্ন অষ্টধাতুর বৌদ্ধ মূর্তি। মন্দিরের নির্মাণ সৌন্দর্যে ইন্দোচীনের স্থাপত্য অনুসরণ করা হয়। দেখলে মনে হবে থাইল্যান্ড, লাওস বা মিয়ানমারের কোন মন্দির। প্রায় সাড়ে তিন ফুট উঁচু বেদির উপর মূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মের আড়াই হাজার বছর পূর্তি উপলক্ষে ৮৩ বছর পূর্বে অষ্টধাতুর ওই মূর্তিটি ওই স্থানে স্থাপন করা হয় বলে রাখাইন সম্প্রদায়ের ইতিহাস থেকে জানা যায়। প্রায় ৭ ফুট উচ্চতার এ বৌদ্ধ মূর্তিটি স্থাপন করেন উপেংইয়া ভিক্ষু। মন্দিরের নীচেই হচ্ছে ঐতিহাসিক কুয়াটি। বর্তমানে সেই কুয়ার পানি খাওয়ার অনুপযোগী অর্থাৎ পরিত্যক্ত। তারপরও কুয়াকাটার ঐতিহ্য ধরে রাখতে কুয়াটিকে নতুনভাবে সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু সংস্কৃতি হয়নি তাদের জীবন মানউন্নয়ন কোন কার্যকর পদক্ষেপ। দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে আদিবাসী রাখাইনদের ভাষা ও সাংস্কৃতি তাদের নেই কোন নিজস্ব স্কুল ধর্মীয় পাঠশালা। এমনকি তাঁদের সন্তানদের ধর্ম শিক্ষার সুযোগ দেয়া হয়না সরকারি ভাবে তাঁদের ধর্মীয় বই।এবিষয়ে কথা হয় বিভিন্ন পারার,রাখাইন জন গুষ্টির,সাধারণ মানুষের সাথে তাদের অভিযোগ, আমাদের, জনগোষ্ঠীর জন্য, নেই কোন নিজস্ব স্কুল ধর্মীয় পাঠশালা, তাই দিনে দিনে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের, মাতৃভাষা,এমনকি আমাদের ধর্মীয় কোন বই সরকারি ভাবে বিতাড়ন, এবিষয়ে কথা হয় বরিশাল শিক্ষা কর্মকর্তার৷ সাথে রাখাইন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় বই সরকারি ভাবে সাপ্লাই হয় কিনা জানতে চাইলে,তিনি বলেন এবিষয়ে, তার জানা নেই।রাখাইন জন গুষ্টির দাবি, এখনই ব্যাবস্থ্যা না নিলে, একসময় হারিয়ে যাবে এই আদিবাসী।

ad

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
ad
ad
© All rights reserved 2022
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: সীমান্ত আইটি